| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ইং | ২০:৫১:৫০:অপরাহ্ন  |  ১০৬১ বার পঠিত
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সম্পন্ন হয়েছে। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাদ জোহর ফতুল্লার বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে তাদের দাদার কবরের পাশে দাফন সম্পূর্ণ করা হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফারিহা কবির (৩৩), তার ছোট ভাই নাফিস তেহামি (২৬) ও ফারিহার সাড়ে ছয় বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূর। গত ১৭ অক্টোবর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যু হয়।

নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারিহা স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। তার ছেলে ফাইজান স্থানীয় প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-টু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ফারিহার স্বামী নূর আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে কর্মরত। তাদের বাবা জিহাদুল কবির অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

ফারিহার চাচাতো বোন সাদিয়া বিনতে হাবিব বলেন, চলতি মাসের ১৪ অক্টোবর ফারিহা ও তার এক খালাতো বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্য কক্সবাজারে বেড়াতে যান। জরুরি কাজে ফারিহার স্বামী অগ্নিকাণ্ডের আগের রাতে সেখান থেকে চলে আসেন।

সাদিয়ার  আরও বলেন, ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টার বাসে তাদের ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাস তাদের রিসোর্ট থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। স্বামী চলে আসার পর রিসোর্টের একটি কক্ষে ফারিহা, নাফিস ও ফাইজান ছিলেন। অন্য একটি কক্ষে ছিলেন পরিবারের আরও ছয় সদস্য।

তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগে। এ সময় তিনজন জানালার থাই গ্লাস ভেঙে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। সকাল পৌনে ৮টার দিকে তাঁর চাচা ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানান। পরে তাঁরা স্বজনদের মৃত্যুর সংবাদ পান।

সাদিয়া বিনতে হাবিব জানান, তাদের দাদা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে পরিবারের সদস্যরা ফতুল্লা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে রেলওয়ে কলোনিতে বসবাস করতেন। সেখানেই ফারিহা ও নাফিসের শৈশব-কৈশোর কেটেছে। ফতুল্লায় তাদের নিজস্ব বাড়িও রয়েছে।

২০১৯ সালে ফারিহার বিয়ে হয়। স্বামীর চাকরির সুবাদে তিনি চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিনজনের দাদা ও নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ফতুল্লায় দাফন করা হয়েছে।

একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা। বিশেষ করে নাফিসকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরেক খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দাফন করা হয়েছে। অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে দাফন করা হয়েছে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪