| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অর্ণব পরবর্তী ১০ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে তথ্য প্রকাশ

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ইং | ২২:১৪:২৮:অপরাহ্ন  |  ১৩৭৪ বার পঠিত
অর্ণব পরবর্তী ১০ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে তথ্য প্রকাশ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গাছের নিচে চাপা পড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত এ নামের অর্থ সমুদ্র বা সাগর। ঝড়টির নাম নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সামনে এসেছে পরবর্তী ১০টি ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নির্ধারিত নামের তালিকা। খবর লাইভমিন্টের।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) অনুমোদিত উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তালিকা অনুযায়ী, অর্ণবের পর পর্যায়ক্রমে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত পরবর্তী ১০টি নাম দিয়েছে ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। 

অর্ণবের পরবর্তী ১০ ঘূর্ণিঝড়ের নাম

১. মুরাসু (Murasu) — ভারত

২. আকভান (Akvan) — ইরান

৩. কানি (Kaani) — মালদ্বীপ

৪. ঙামান (Ngamann) — মিয়ানমার

৫. সাইল (Sail) — ওমান

৬. সাহাব (Sahab) — পাকিস্তান

৭. লুলু (Lulu) — কাতার

৮. গাজির (Ghazeer) — সৌদি আরব

৯. গিগুম (Gigum) — শ্রীলঙ্কা

১০. থিয়ানিয়ত (Thianyot) — থাইল্যান্ড।

তবে তালিকায় নাম থাকার অর্থ এই নয় যে নির্দিষ্ট সময়ে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলো সৃষ্টি হবে কিংবা সেগুলোর সবই প্রবল বা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। আবহাওয়াগত পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কোনো নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। নির্ধারিত তালিকা থেকে তখন ক্রমানুসারে নাম দেওয়া হয়।

কীভাবে হয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ?

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের জন্য আলাদা নামের তালিকা রয়েছে। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব পালন করে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র।

এই অঞ্চলের নামের তালিকা তৈরিতে অংশ নেয় ১৩টি দেশ। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

প্রতিটি দেশ নির্দিষ্টসংখ্যক নাম প্রস্তাব করে। অনুমোদিত তালিকা থেকে নির্ধারিত ক্রমানুসারে নাম ব্যবহার করা হয়। একটি নাম ব্যবহারের পর একই তালিকায় সেটি আবার ব্যবহার করা হয় না। 

নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়। নাম সংক্ষিপ্ত, সহজে উচ্চারণযোগ্য, স্বতন্ত্র এবং বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতিতে গ্রহণযোগ্য হতে হয়। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা নয়; বরং ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা।

কেন দেওয়া হয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম?

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সতর্কবার্তা দ্রুত ও স্পষ্টভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একই সময়ে একাধিক ঝড় সক্রিয় থাকলে সেগুলো আলাদাভাবে শনাক্ত করা, সংবাদ প্রচার, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রেও নাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু হয়। প্রথমে আটটি দেশ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেও পরে আরও পাঁচটি দেশ যুক্ত হয়। বর্তমানে এ অঞ্চলের তালিকায় ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নাম রয়েছে। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যে দেশ কোনো ঘূর্ণিঝড়ের নাম প্রস্তাব করে, ঝড়টির আঘাত সেই দেশেই লাগবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, তীব্রতা ও কোথায় স্থলভাগে আঘাত হানবে, তা নির্ভর করে আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪