| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সাজেকে ফের গোলাগুলি, এলাকায় আতঙ্ক

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ইং | ১৬:৫৬:৩৫:অপরাহ্ন  |  ৬৫৬ বার পঠিত
সাজেকে ফের গোলাগুলি, এলাকায় আতঙ্ক

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাঙামাটির বাঘাইছড়ির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে আবারও সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ গোলাগুলির ঘটনা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় চলায় আশপাশের গ্রামগুলোতেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাজেক ও এর আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফের মূল দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে কলাবুনিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুই পক্ষের সশস্ত্র সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করেন।

এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে গোলাগুলির ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে কলাবুনিয়ার দুর্গম এলাকায় দুই আঞ্চলিক দলের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দূর থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।

অন্যদিকে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ‘দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়েছি। তবে কাদের মধ্যে এই গোলাগুলি হচ্ছে, সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জেএসএস কিংবা ইউপিডিএফের কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অবরোধ ও অস্থিরতায় বাড়ছে সংকট

সাজেকে গোলাগুলির এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন এলাকাটিতে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইউপিডিএফের দুটি ছায়া সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে।

সংগঠন দুটির অভিযোগ, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে অবস্থান নিয়েছেন। এতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়াতে গ্রামগুলো থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে তারা এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।

এ পরিস্থিতিতে গত ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে সংগঠন দুটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুই সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে উত্থাপিত পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও গ্রাম থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী সরানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

ফলে দীর্ঘদিনের বিরোধ, সড়ক অবরোধ ও নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪