| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০২, ২০২৬ ইং | ১৫:৪৬:৪৪:অপরাহ্ন  |  ২৪১ বার পঠিত
মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সারা দেশের ফাজিল ও কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিল করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন।

পরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আইনজীবী পারভেজ হোসেন জানান, ভোলা জেলার চরফ্যাশন কারামতিয়া কামিল মাদরাসার সভাপতির দায়ের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ আদেশ দিয়েছেন। রিটটি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ৩৬ নম্বর আইটেম হিসেবে শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আইনজীবী জানান, গত ১৯ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের সব ফাজিল ও কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডি একযোগে বাতিল করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্ট মাদরাসার সভাপতি।

রিটের পক্ষে শুনানিতে অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন যুক্তি তুলে ধরেন, মাদরাসার গভর্নিং বডি গঠন ও বাতিলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও বিধিবিধান রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা গভর্নিং বডি আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারে। এরপর যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু কোনো ধরনের নোটিশ, তদন্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়ে একযোগে দেশের সব মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিল করা হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয়।

আইনজীবী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিশেষ পরিস্থিতিতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড তৎকালীন কমিটিগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে বর্তমান স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষমূলক।

শুনানি শেষে আদালত ১৯ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পাশাপাশি প্রজ্ঞাপনটি চূড়ান্তভাবে কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি চার সপ্তাহের রুল জারি করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর দেশের সব ফাজিল ও কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (ইআবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ওই আদেশে বলা হয়েছিল, গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসাগুলোর গভর্নিং বডি বাতিল করা হয়েছে।

একই সঙ্গে মাদরাসাগুলোতে অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সংবিধি-২০২৩-এর (খ) অংশের ধারা ১-এর উপধারা খ (১) ও (৩) অনুযায়ী সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, জেলা সদরে অবস্থিত মাদরাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং জেলা সদরের বাইরে অবস্থিত মাদরাসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে মনোনয়ন দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে জেলা পর্যায়ের মাদরাসায় জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা পর্যায়ের মাদরাসায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়।

এ ছাড়া মাদরাসাগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

তবে এখন হাইকোর্টের আদেশের ফলে গভর্নিং বডি বাতিলসংক্রান্ত ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত থাকছে। চার সপ্তাহের রুলের জবাব এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নির্ধারিত হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪