| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাজবাড়ীতে প্রবাসী হত্যা মামলায় ১০ বছর পর একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৩, ২০২৬ ইং | ১৫:৫৮:৫০:অপরাহ্ন  |  ৮৩৯ বার পঠিত
রাজবাড়ীতে প্রবাসী হত্যা মামলায় ১০ বছর পর একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর পাংশায় কাতারপ্রবাসী আব্দুর রহিম মোল্লা (৩০) হত্যা মামলায় প্রায় ১০ বছর পর মো. সাদ্দাম মিয়া নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সাদ্দাম মিয়া পাংশা পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে। মামলার খালাসপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন একই গ্রামের জলিল মণ্ডলের ছেলে পলাশ মণ্ডল ও রাসেল মণ্ডল এবং পাংশার কুড়াপাড়া গ্রামের নুরু মুন্সীর ছেলে শরীফ মুন্সী। ঘটনার সঙ্গে তাঁদের জড়িত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের খালাস দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নিহত আব্দুর রহিম মোল্লা পাংশা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে। তিনি কাতারপ্রবাসী ছিলেন। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে রহিম মোল্লার ছোট ভাই রহমান মোল্লাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাদ্দাম মিয়া ১০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার দুই মাস পরও চাকরির ব্যবস্থা না করায় ওই টাকা ফেরত চান রহমান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পাংশা সরকারি কলেজসংলগ্ন চাচার ক্যান্টিনের সামনে রহিম মোল্লাকে ডেকে নেন সাদ্দাম। সেখানে পাওনা টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাদ্দাম তাঁর হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রহিমের পেটে ও উরুতে আঘাত করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সাদ্দাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত রহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ৮ নভেম্বর বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ময়না বেগম বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর রাতে সাদ্দাম মিয়াকে প্রধান আসামি করে পাংশা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক-২ বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও তদন্ত শেষে আদালত কাতারপ্রবাসী আব্দুর রহিম মোল্লা হত্যার ঘটনায় সাদ্দাম মিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪