| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৬, ২০২৬ ইং | ১৫:০৪:৫৪:অপরাহ্ন  |  ৩৩৪ বার পঠিত
আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী ও খুনি আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না জনগণ। যারা মানুষ হত্যা, গণহত্যা, জুলুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, অথচ নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চায়নি কিংবা অনুশোচনা প্রকাশ করেনি, তাদের এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিলের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী নির্বাচন ও আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীনের পক্ষে, দেশের পক্ষে এবং ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির হজরত মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর সময় লেগেছে। আর ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে দেশের জনগণকে মুক্ত করতে ১৬ থেকে ১৭ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজের অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তাদের সবার নাম কিংবা কবরের ঠিকানা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এত মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা ইসলামবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছি। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে। এর আগে বিগত ১৬-১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। নিজের গুমের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমিও তাদের একজন ছিলাম। রব্বুল আলামিন আমার হায়াত রেখেছেন। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে আজ বেঁচে আছি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলার মাধ্যমে নিপীড়িত হয়েছেন। এত ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের পরও আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের প্রত্যাবর্তন চাই? তাহলে কারা আবার সেই পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বক্তব্যে কিছু রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ দেশে এমন কিছু দুষ্কৃতকারী রয়েছে, যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করছে। অথচ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামের মৌলিক আদর্শের প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যারা নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দেয়, তাদের দলীয় ম্যানিফেস্টোতে ‘আকিমুদ্দিন’ বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা মুখে এক ধরনের কথা বললেও দলীয় নথিপত্রে কী রয়েছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা উচিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এসব দল কখনো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলেনি। শরিয়াভিত্তিক আইন-কানুন চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেয়নি। বরং শরিয়াভিত্তিক শাসনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করি। আমরা ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন করেছি, কোরআন পাঠ করেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি। এ দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার রাজনীতি করেছি, যেখানে সবার একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ দেশে জাতির মধ্যে কোনো বিভেদ দেখতে চান না তারা। যারা ধর্মের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করছে, তাদের কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন নেই। বরং এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে বিভক্তি তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। এখন আবার কেউ কেউ সেই একই পথে হাঁটছে। দেশের স্বার্থে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভাজন পরিহার করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাবুনগর মাদরাসার পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪