| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইসরাইলে ১০ সামরিক বিমান পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে কী?

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ইং | ১০:৫৬:৫৬:পূর্বাহ্ন  |  ৩৩৭১ বার পঠিত
ইসরাইলে ১০ সামরিক বিমান পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে কী?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় নেগেভ মরুভূমির দুটি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান এ তথ্য জানিয়েছে। 

কানের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানগুলো ইসরাইলে ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। একই সঙ্গে জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতেও অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক বিমান পাঠানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ব্লিস সামরিক ঘাঁটি থেকে যাত্রা করেছে। এই ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম বড় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সরঞ্জামও সংরক্ষিত আছে।

তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিমানগুলোতে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ছিল, তা-ও স্পষ্ট নয়। একইভাবে ওয়াশিংটন ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

তবে সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ধরন বা সময় সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু জানাননি। এর আগে চলতি সপ্তাহে কান জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে টেক্সাস থেকে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘাঁটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে কান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর অস্ত্রের মজুত বাড়ানো হচ্ছে। আগামী নভেম্বর মাসে একটি অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন কোরের একটি ইউনিট সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এসব অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই অবস্থানরত প্রায় ২০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন।

পত্রিকাটির মতে, এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ঘটনা ইঙ্গিত দিতে পারে যে ওয়াশিংটন বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি জানিয়েছেন, ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি এবং আরও কয়েকজন সিনেটরকে ব্রিফ করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনাকে ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মারফির সতর্কবার্তা, ইরানে এমন কোনো অভিযান চালানো হলে তা ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে আইনের শাসনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪