| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা সফল হবে না: ইশরাক

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৭, ২০২৬ ইং | ১২:৫৭:২২:অপরাহ্ন  |  ৮৩৪১ বার পঠিত
আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা সফল হবে না: ইশরাক

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: হাতে পিস্তল নিয়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হলেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, মাদক নির্মূলের অংশ হিসেবেই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনে নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন। এ ঘটনায় তিনি কোনো ভুল করেননি বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন।

সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের পদত্যাগ, আলোচিত পিস্তল প্রদর্শনের ঘটনা, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের ভেতরে-বাইরে তাঁকে দুর্বল করার চেষ্টা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ইশরাক। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পত্রিকাটির স্টাফ রিপোর্টার নূরে আলম জিকু।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর বিকালে গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় ইশরাকের পিস্তল হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ফেসবুক পেজের পোস্টেও ওই ঘটনার উল্লেখ ছিল।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস এবং অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে একদল লোককে ধাওয়া করছেন তিনি। এ সময় পিস্তলের স্লাইড টেনে অস্ত্রটি গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকজনের দিকে তাক করে ‘অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাঁকে। ভিডিওতে সাদা পোশাকের আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায়।

এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরদিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। পরে গত ২০ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন।

সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের বক্তব্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তাঁদের মতে, ইশরাককে রাজনীতিতে কোণঠাসা বা দুর্বল করা গেলে জামায়াত ও এনসিপি লাভবান হতে পারে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠে ফিরলেও তারা সুবিধা পেতে পারে।

এ বিষয়ে ইশরাক বলেন, বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা নিজেদের বিচার-বিবেচনা এবং অভিজ্ঞতা থেকে এ ধরনের মন্তব্য করে থাকেন। তাঁদের বক্তব্য একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। নিশ্চয়ই কোনো ভিত্তি থেকেই তাঁরা এমন বিশ্লেষণ করেন।

তবে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। ইশরাক বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই- আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার যে প্রয়াসই চলুক না কেন, তা কোনোভাবেই সফলতা পাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন বলেও দাবি করেন ইশরাক। তিনি বলেন, দলে হাজার হাজার নেতাকর্মী থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী সব সময় তাঁকে বিশেষ স্নেহ ও আস্থার চোখে দেখেছেন। ফলে দলের ভেতরে কিংবা বাইরে থেকে কেউ তাঁকে দুর্বল বা রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতায় ফেলার চেষ্টা করলে তা মোকাবিলার জন্য তাঁর পূর্ণ রাজনৈতিক ও মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে।

রাজনীতিতে নিজের বড় কোনো ভুল হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আলোচিত পিস্তল প্রদর্শনের ঘটনাটির প্রসঙ্গ টানেন তিনি। ইশরাকের দাবি, ওই ঘটনায় তিনি বিন্দুমাত্র ভুল করেননি। প্রধানমন্ত্রীর সামনেও তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

তাঁর ভাষ্য, এলাকায় মাদক নির্মূলের অংশ হিসেবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সেখানে গিয়েছিলেন। আত্মরক্ষার প্রয়োজনে নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্রটি কিছু সময়ের জন্য প্রদর্শন করেছিলেন। পরে সেটি আবার যথাযথভাবে সুরক্ষিত অবস্থায় রাখেন।

এ বিষয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, ‘এখানে এক সেকেন্ডের জন্যও আমি কোনো অন্যায় বা ভুল করিনি এবং আমৃত্যু আমি এ অবস্থানেই অটল থাকব।’

তবে অতীতের সামগ্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিস্থিতি কিংবা বক্তব্যের কারণে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি। তাঁর মতে, মানুষ হিসেবে ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যের পরামর্শের ওপর কতটা নির্ভর করেন, সে বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইশরাক। তিনি বলেন, কারও অন্ধ পরামর্শ কিংবা কাছের মানুষের কথায় তিনি রাজনীতি করেন না। অনেকের মতামত শোনেন এবং যেসব পরামর্শ ইতিবাচক ও কৌশলগতভাবে কার্যকর মনে হয়, সেগুলো গ্রহণ করেন।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিজেই নেন বলে জানান তিনি। কারণ, যেকোনো কাজের চূড়ান্ত দায়দায়িত্ব ও পরিণতি তাঁকেই বহন করতে হয়। সেই দায়ভার নিতে তিনি সব সময় প্রস্তুত।

ইশরাক আরও বলেন, কারও অসৎ প্ররোচনা কিংবা ভুল পরামর্শে তিনি কখনো পরিচালিত হননি। অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি সিদ্ধান্তও ছিল তাঁর নিজস্ব।

সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর পদ হারালেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে যেতে চান না ইশরাক হোসেন। বরং নিজের অবস্থান ধরে রেখে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪