ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার নামে চলছে অব্যবস্থা ও অনিয়মের উৎসব। রোগীরা পাচ্ছেন না সঠিক চিকিৎসা, খাচ্ছেন নিম্নমানের খাবার, ওষুধ থাকলেও দেওয়া হচ্ছে না। এমন ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঠাকুরগাঁও সমন্বিত কার্যালয়ের গঠিত একটি এনফোর্সমেন্ট টিমের হঠাৎ অভিযানে।
বৃহস্পতিবার পীরগঞ্জের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গোপন অভিযান চালায় দুদক টিম। প্রথমে ছদ্মবেশে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন সদস্যরা। পরে পরিচয় প্রকাশ করে চিকিৎসা কার্যক্রম, ওষুধ বিতরণ, যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা ও খাবার সরবরাহসহ নানা বিষয় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তারা।
দুদকের ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আজমির শরীফ মারজী বলেন, “আমরা দেখেছি, রোগীদের দেওয়া খাবার একেবারেই নিম্নমানের। নির্ধারিত ডায়েট চার্টের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। ওষুধ মজুত থাকলেও অনেক রোগী তা পাচ্ছেন না।”
অভিযানে দেখা যায়, বহির্বিভাগের স্টোর রুমে সংরক্ষিত ওষুধের রেজিস্টার গত দুই মাস ধরে হালনাগাদ হয়নি। রোগ নির্ণয়ের জন্য থাকা বেশ কিছু যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল। এমনকি সচল যন্ত্র থাকলেও রোগীদের ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ আছে, পরীক্ষা করাতে গেলে মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা অহেতুক হয়রানি করেন।
অভ্যন্তরীণ ওষুধের স্টক রেজিস্টার পরীক্ষা করার সময় নার্স ইনচার্জ কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের গাফিলতির প্রমাণ মেলে। ইউএইচএফপিও মহোদয়ের পীরগঞ্জে থেকে কাজ করার কথা থাকলেও তিনি প্রতিদিন ঠাকুরগাঁও শহর থেকে সরকারি গাড়িতে এসে হাসপাতাল তদারকি করেন বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
দুদকের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। জব্দকৃত কাগজপত্র ও নথি পর্যালোচনার পর কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান দুদক কর্মকর্তা।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস