সিনিয়র রিপোর্টার : রাজধানীর তুরাগ এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী বিথী আক্তার ওরফে বিলকিসকে (৩৫) হত্যার অভিযোগে স্বামীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. বাবুল মিয়া (৪৭) ও তার সহযোগী মো. সম্রাট (২০)। শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ডিসি মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিথী আক্তার নিখোঁজ হন। তার মা মনোয়ারা বেগম এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তুরাগ থানার রাজউকের ১৭ নম্বর সেক্টরের খেলার মাঠে কাশবনের মধ্যে একটি অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। মনোয়ারা বেগম সেখানে গিয়ে তার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। এই ঘটনার পর তার অভিযোগের ভিত্তিতে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মামলার পর তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে হত্যাকাÐে জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শনিবার দুপুরে পল্লবী থানা পুলিশের সহায়তায় মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে বিথীর স্বামী বাবুলকে গ্রেপ্তর করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেলে মিরপুর-১২ কালাপানি এলাকা থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসি মুহিদুল ইসলাম বলেন, বিথী আক্তার এবং বাবুল প্রায় ছয় বছর ধরে দাম্পত্য কলহে ভুগছিলেন। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সুদের ঋণ। বাবুল ক্যান্টনমেন্টের ৭০৩ সেন্ট্রাল ওয়ার্কশপে চাকরি করে মাসে প্রায় ৩১ হাজার টাকা বেতন পান, যার বেশিরভাগই সুদের টাকা দিতে খরচ হয়ে যেত। এই নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। সুদের পাওনাদারদের কারণে তার স্ত্রী ঠিকমতো ঘুমাতে বা খেতে পারতেন না এবং এ নিয়ে প্রায়ই বকাঝকা করতেন। এছাড়া, স্ত্রীর বিরুদ্ধে তার ভাই বা অন্য কাউকে টাকা দেওয়ার সন্দেহও ছিল, যা তাদের কলহকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। বাবুল আরও স্বীকার করেন যে, গত দুই-তিন মাস আগে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং সম্রাটসহ আরও দুজনের সহায়তায় হত্যাকাÐটি ঘটান।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাÐের পর সম্রাটকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন বাবুল, যদিও তিনি জানান তার স্বল্প বেতনের কারণে সেই টাকা কিস্তিতে পরিশোধের কথা বলেছিলেন। বিথী আক্তার কিছুটা মাদকাসক্ত ছিলেন বলে তার মায়ের কাছ থেকে জানা গেছে।