| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৭, ২০২৬ ইং | ২০:০১:১০:অপরাহ্ন  |  ২৭২২ বার পঠিত
‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে তাঁর বহুল আলোচিত স্লোগান ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কৃষককেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা প্রশ্ন করেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ কর্মসূচির আওতায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তা বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষককেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে উৎপাদন ও বিপণন সম্পূর্ণ তথ্যচালিত হবে এবং প্রান্তিক কৃষকরা উদ্যোক্তা হিসেবে ক্ষমতায়িত হবেন। তিনি বলেন, কৃষিখাতকে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সরকারের অগ্রাধিকার।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের সহায়তায় ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি, স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা এবং সহজ শর্তে কৃষিযন্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষক কার্ড কার্যক্রম ইতোমধ্যে ৮ বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে চালু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শস্য, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন।

তিনি জানান, দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার সরাসরি কৃষকের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু-সহিষ্ণু বীজ সরবরাহ, স্মার্ট কৃষি ও প্রিসিশন এগ্রিকালচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ‘কৃষকবাজার’ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, কৃষিক্ষেত্রে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে, যা কৃষি ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ এবং উপকূলীয় এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের মাধ্যমে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে জলাধার তৈরি করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪