| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঝাড়ফুঁক নয়, ওঝারও ভরসা একমাত্র ভ্যাকসিন

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৩, ২০২৫ ইং | ০৯:০০:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ১২৩৭৫৪৫ বার পঠিত
ঝাড়ফুঁক নয়, ওঝারও ভরসা একমাত্র ভ্যাকসিন
ছবির ক্যাপশন: ঝাড়ফুঁক নয়, ওঝারও ভরসা একমাত্র ভ্যাকসিন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে তিনজন সাপুড়ে বসেছিলেন খেলা দেখাতে। কাঠের বাক্স থেকে থেকে বের হচ্ছিল গোখরা, কেউটে, চন্দ্রবোড়া, দাড়াশ আর অজগর। চারপাশে ভিড় জমলেও দৃশ্যটা যেন একসময়ের তুলনায় ম্লান। এখন আর আগের মতো দর্শকের ভিড় নেই, গাছগাছালির ওষুধেরও কদর নেই।

দিনাজপুর পৌর শহরের শেখপুরা মহল্লার বাসিন্দা মো. আইনুদ্দিনের (৭৫) জীবন কেটেছে সাপের খেলা দেখিয়েই। তিনি বলেন, “৪০ বছর হলো সাপের খেলা দেখাচ্ছি। সাপ বিক্রি করে আর এই খেলার আয়ে দুই ছেলে দুই মেয়েকে মানুষ করেছি। আগে ভিড় লেগে থাকত, এখন আর কেউ আসে না।”

আইনুদ্দিন জানান, ‘খেলার জন্য তাঁরা সাপ কেনেন ঢাকার সাভারের বাজার থেকে। বেশির ভাগ সাপ ভারত থেকে আসে। একেকটি সাপ কিনতে লাগে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। খেলার সময় কখনো কখনো সাপ দংশনও করে বসে। 

আইনুদ্দিন বলেন, ‘তিন–চারবার সাপে কামড়েছে। প্রতিবার মেডিকেলে গিয়ে ভ্যাকসিন নিয়ে সুস্থ হয়েছি।’

আইনুদ্দিনের পাশে বসেছিলেন তাঁর ওস্তাদ নুর ইসলাম। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আগে গাছগাছালির ওষুধ বিক্রি করে সংসার চলত। এখন আর কেউ কেনে না। দু–তিন মাস পর খেলা ছেড়ে ফলের দোকান দেব ভাবছি।’

দলের আরেক সদস্য হবিবুর রহমানও আছেন এই পেশায় চার দশক ধরে। তাঁর কথায়, ‘খেলা দিয়ে আর সংসার চলে না। নতুন পথ খুঁজতেই হবে।’

এই সাপুড়েরা স্বীকার করেন, বিষদাঁত ভেঙে ফেলার পরও সাপে দংশনের ঝুঁকি থাকে। কারণ, প্রতি মাসেই নতুন বিষদাঁত গজায়। ফলে খেলা চলাকালীন তাঁদের প্রায়ই কামড় খেতে হয়। নিজেদের তৈরি গাছগাছালির ওষুধে কোনো ফল মেলেনি।

আইনুদ্দিন সরল স্বীকারোক্তি দেন, ‘কাউকে সাপে কামড়ালে তার প্রথম কাজ হওয়া উচিত মেডিকেলে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়া। ওঝা বা ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট করলে রোগীর প্রাণ ঝুঁকিতে পড়ে।’

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘যাঁরা সাপ নিয়ে খেলা দেখান, ঝুঁকি নেন প্রতিদিন, তাঁরাও শেষ পর্যন্ত ছুটে যান হাসপাতালে। তাঁদের এই অভিজ্ঞতা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—সাপে কামড়ালে ভরসা একটাই, ভ্যাকসিন। ওঝা নয়, চিকিৎসাই পারে জীবন বাঁচাতে।’

রিপোর্টার্স ২৪/ প্রীতিলতা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪