ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: টানা তিন দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁও জেলায় আমন ধান ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠজুড়ে পানিতে ডুবে গেছে পাকা ধান ও আগাম সবজির জমি। কৃষকরা বলছেন, ধান পানিতে ডুবে শীষ ঝরে পড়ছে, সবজির গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার(৫ অক্টোবর) জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, মাঠে নুয়ে পড়া ধান আর জলাবদ্ধ সবজির ক্ষেত। কৃষকরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছেন তাদের ক্ষতির চিত্র।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চাষি রমজান আলী বলেন, ‘আর কয়েকদিনের মধ্যে ধান কাটার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। শীষ কালচে হয়ে যাচ্ছে, এতে ফলনও কমবে, দামও মিলবে না।’
রুহিয়া ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘বছরের আশার ফসল ছিল এই ধান। বৃষ্টিতে অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেল। এখন খরচ ওঠানোই কঠিন হবে।’
কেবল ধান নয়, শীতকালীন সবজি আবাদকারীরাও বিপাকে পড়েছেন। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সবজি চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, ‘শসা আর টমেটো রোপণ করেছি। কিন্তু ক্ষেত ডুবে গেছে। শিকড় পচে গাছ মরে যাওয়ার ভয় পাচ্ছি।’
একই এলাকার নারী কৃষক হালিমা খাতুন বলেন, ‘ফুলকপি-বাঁধাকপি ভালোই হচ্ছিল। কিন্তু পানিতে ডুবে পাতাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ঋণ শোধ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত তিন দিনে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩২.৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। জেলায় বর্তমানে এক লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান এবং সাত হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ চলছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ হেক্টরে আগাম সবজি রোপণ করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আলমগীর কবির বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে এ সময় এত টানা বৃষ্টি দেখা যায়নি। এতে পাকা ধানের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, ফলন কমবে। সবজিও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি দ্রুত জমি থেকে পানি নামানোর জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ক্ষতি কিছুটা সামলে ওঠা সম্ভব হবে। কৃষকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই, কৃষি বিভাগ মাঠে থেকে সহযোগিতা করছে।’
রিপোর্টার্স২৪/ প্রীতিলতা