রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে। এর ফলে শুক্রবার ওই দুই পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে না।
ঘটনাটি বড় আকার ধারণ করে রাত ১২টার দিকে শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত চলেছে। হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারী শাহবাগ থেকে শুরু করে কারওয়ান বাজারের দিকে মিছিল করে এসে প্রথমে প্রথম আলোর অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও আগুন জ্বালায়। তারা বহুতল ভবনের ভেতরে কাগজপত্র, আসবাবপত্র ছিড়ে ফেলে এবং অফিসের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরে একইভাবে তারা পাশেই অবস্থিত দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ের উপরও হামলা চালায়। গ্লাস ভাঙ্গা, আসবাবপত্র বের করে আগুনে ফেলা এবং অফিসের ভেতরে প্রবেশ করার ঘটনাও ঘটে। অনেক কর্মী আতঙ্কে ছাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করতে হয়েছে।
বিক্ষুব্ধদের কিছু অংশ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দৃশ্যমান ভিডিওতে দেখা গেছে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা ও সহিংস আচরণ; এমনকি একজন সিনিয়র সাংবাদিককে জনতার সামনে হেনস্তা করা হয় বলে ভিডিওতে প্রকাশিত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে এবং সাংবাদিকদের কৌশলে উদ্ধার করা হয়েছে, যদিও উদ্ধার অভিযান কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সহিংসতা ওসামান হাদির হত্যার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে এবং এতে দেশজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এ ধরনের হামলা‑ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটনা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সামাজিক বা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে রিপোর্ট করছে যে বিক্ষোভকারীরা প্রধান পত্রিকার অফিসকে লক্ষ্য করেছে, যা প্রেস স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র : বিবিসি
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম