| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিকে অস্ত্র বানিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক-রাজনীতি: মার্কিন আদালতের রায়ে ধাক্কা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৯, ২০২৫ ইং | ০৪:৫১:১৩:পূর্বাহ্ন  |  ১৮২৭৩৩৫ বার পঠিত
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিকে অস্ত্র বানিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক-রাজনীতি: মার্কিন আদালতের রায়ে ধাক্কা
ছবির ক্যাপশন: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিকে অস্ত্র বানিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক-রাজনীতি: মার্কিন আদালতের রায়ে ধাক্কা

রিপোর্টার্স২৪ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে একটি বিস্ময়কর কৌশল দেখা গেল। তাঁর প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতকে জানায়, যদি আদালত ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করে, তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তাঁর মধ্যস্থতায় গঠিত যুদ্ধবিরতি বিপন্ন হয়ে পড়বে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। গত সপ্তাহে আদালত ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়া সাময়িকভাবে আটকে দেয়। তবে প্রশাসনের পক্ষে জমা দেওয়া আবেদনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

২৩ মে আদালতে জমা দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক লেখেন, “এই আদালতের সিদ্ধান্ত যদি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে, তবে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই ট্রাম্পের প্রস্তাব ও হস্তক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, যা কেবল বাণিজ্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন যে, তাঁর কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং বাণিজ্যিক চাপ ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনে। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের নেতাদের কাছে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি কার্যকর এক বার্তা দেয় এবং তাদের শত্রুতার ইতি টানতে বাধ্য করে।

তবে ভারতের পক্ষ থেকে এই দাবি বারবার খণ্ডন করা হয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি এসেছে উভয় দেশের “সরাসরি যোগাযোগ” এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক প্রয়াসের মাধ্যমে, কোনো বাইরের শক্তির মধ্যস্থতায় নয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই আবেদন মার্কিন অভ্যন্তরীণ নীতিতে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে কিভাবে জড়ানো হচ্ছে তার একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। একদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে এনে শুল্ক সংক্রান্ত মামলায় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তান সংবেদনশীল সম্পর্ককে এক ধরনের দরকষাকষির উপকরণ বানানো হচ্ছে।

কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কতটা পরিমাণে বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপ করতে পারেন এবং সে ক্ষমতা কবে সীমিত হবে—এই প্রশ্নে এখন দেশটির আদালত ও আইনপ্রণেতারা মুখোমুখি। কিন্তু এই বিতর্কে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে টেনে আনা কেবল এক রাজনৈতিক কৌশল নয়, তা এক বিরাট কূটনৈতিক ঝুঁকির ইঙ্গিতও বহন করে।

যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক বাস্তবতা দুই ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করে, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রয়াস মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আন্তর্জাতিক সংকটে রূপান্তরিত করার নতুন এক নজির। আদালতের সিদ্ধান্ত এখন শুধু শুল্ক নয়, এক জটিল কূটনৈতিক দাবা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪