ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : দেশ এখন এক ক্লান্তিকর সময় অতিক্রম করছে—এমন মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। কিছু চক্রান্তকারী পেছন থেকে দেশকে আবার অন্ধকারে ঠেলে দিতে তৎপর। এ অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না হয় এবং চক্রান্তকারীদের ফাঁদে না পড়ি।
রোববার ঠাকুরগাঁওয়ের মানবকল্যাণ পরিষদ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ, ওসমান হাদি, ওয়াসিমসহ অন্য শহীদদের স্মরণ করেন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন ভাঙার চেষ্টা চলছে, কিন্তু তা যাতে কেউ সফল না হতে পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক দেশে প্রত্যাবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর আগমনে ঢাকার রাজপথে স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হয়েছে। তারেক রহমানের বক্তব্যে বারবার ইসলাম ও আল্লাহর কথা উঠে এসেছে, যা আলেম সমাজের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি কুরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন প্রণয়ন করতে দেবে না। এটি দলের দৃঢ় অঙ্গীকার। চরমোনাই পীরের সঙ্গে আলোচনাতেও এ বিষয়ে তারা একমত হয়েছিলেন। যারা বিএনপিকে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী বলে প্রচার করে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিএনপি সবসময় কুরআন-সুন্নাহর পথে থাকতে চায়।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। বিএনপি শান্তি চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়—যেখানে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে ইবাদত ও ধর্মচর্চা করতে পারবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ রচিত হবে।
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হবে। মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্থানীয় দাবিগুলো তাঁর নিজের দাবি। এগুলো বাস্তবায়নে তিনি সারা জীবন কাজ করে এসেছেন।
ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতায় গেলে খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী প্রদান করা হবে। ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১৯৯৩ সালের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তার, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে শক্তিশালী করা এবং তাঁদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব সুবিধা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
সভার শেষে আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, এটাই হয়তো তাঁর শেষ নির্বাচন। বয়স হয়ে গেছে, পরবর্তীতে নির্বাচন করা সম্ভব হবে কি না তিনি জানেন না।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন