আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে ইসফাহান শহরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি (IRIB)-এর একটি ভবনে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব ভিডিও ও তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইন্টারনেট বন্ধ, তথ্য প্রবাহ সীমিত
একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইরানজুড়ে কার্যত ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বিক্ষোভ সংক্রান্ত তথ্য আদান–প্রদান মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি আরও অস্বচ্ছ হয়ে উঠেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বিভিন্ন শহরে আগুন, কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার এবং গোলাগুলির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি, উত্তেজনা বৃদ্ধি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। ৯ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের টার্গেট করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র “লকড অ্যান্ড লোডেড” অর্থাৎ যে কোনো সময় হস্তক্ষেপে প্রস্তুত।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
সরকারের অবস্থান ও গ্রেপ্তার
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিদেশি সংশ্লিষ্ট উসকানিদাতাদের সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। সরকার দাবি করেছে, অনেক হতাহত সহিংস সংঘর্ষের ফল, পরিকল্পিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের নয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের কথা স্বীকার করলেও চলমান সহিংসতার জন্য বহিরাগত শক্তিকে দায়ী করেছেন।
প্রেসিডেন্টের সংযমের আহ্বান
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে চরম সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী ও সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে হবে এবং অহেতুক দমন অভিযান থেকে বিরত থাকতে হবে।
অন্যদিকে জার্মানি ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও ইরানের কঠোর দমননীতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
ইরান সরকার জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হামলার জবাবে “সীমাহীন প্রতিক্রিয়া” দেখানো হবে। তেহরানের ভাষায়, দেশের নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডে হুমকি একটি ‘লাল রেখা’।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি