| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের স্পষ্ট অবস্থান—দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়

রাশিয়া-চীন যাতে দখল নিতে না পারে, সে জন্য গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ চান ট্রাম্প

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১০, ২০২৬ ইং | ১১:৪৫:২৬:পূর্বাহ্ন  |  30123 বার পঠিত
রাশিয়া-চীন যাতে দখল নিতে না পারে, সে জন্য গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ চান ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কেবল ইজারা চুক্তি নয়, গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে হলে এর মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের থাকতে হবে।

শুক্রবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন,দেশগুলোর মালিকানা থাকতে হবে। আপনি ইজারা রক্ষা করতে পারবেন না। আমাদের গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে হবে।তিনি আরও বলেন,আমরা এটি সহজ উপায়ে অথবা কঠিন উপায়ে যেভাবেই হোক করব।

গ্রিনল্যান্ড কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবহুল অঞ্চলগুলোর একটি হলেও গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত। এখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা পরিচালনা এবং আর্কটিক অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজ নজরদারি করা সম্ভব।

গ্রিনল্যান্ডে ইতোমধ্যেই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পিটুফিক ঘাঁটিতে শতাধিক মার্কিন সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সেখানে আরও সেনা মোতায়েনের আইনগত সুযোগও রাখে।

তবে ট্রাম্পের মতে, এসব ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন,কোনো দেশ নয় বছরের চুক্তি বা এমনকি একশ বছরের চুক্তির ওপর নির্ভর করতে পারে না। মালিকানা থাকতে হবে।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিক্রিয়া

হোয়াইট হাউস সম্প্রতি জানিয়েছে, নেটো সদস্য ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করছে। এমনকি অঞ্চলটি জোরপূর্বক যুক্ত করার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা নেটো জোটের ভবিষ্যৎকেই হুমকির মুখে ফেলবে।

ডেনমার্কের নেটো মিত্র দেশগুলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান রাষ্ট্র এবং কানাডা এ সপ্তাহে যৌথভাবে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে জানায়,গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাদেরই।

রাশিয়া ও চীনের উপস্থিতির অভিযোগ

ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের চারপাশে রাশিয়া ও চীনের জাহাজের উপস্থিতি বাড়ছে। দ্বীপটি সর্বত্র রাশিয়ান ও চীনা জাহাজে পরিপূর্ণ, বলেন তিনি।তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন,আমি চীনের জনগণকে ভালোবাসি, রাশিয়ার জনগণকেও ভালোবাসি। কিন্তু আমি তাদের গ্রিনল্যান্ডে প্রতিবেশী হিসেবে চাই না।

প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূরাজনীতি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ বেড়েছে। এখানে বিরল মৃত্তিকা খনিজ, ইউরেনিয়াম, লোহা এবং সম্ভাব্য তেল ও গ্যাসের মজুদের কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলতে থাকায় এসব সম্পদ আহরণ আরও সহজ হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকির পর।

গ্রিনল্যান্ডবাসীদের স্পষ্ট বার্তা


শুক্রবার রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও বিরোধী দলের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা বলেন,আমরা আমেরিকান হতে চাই না, ডেনিশও হতে চাই না আমরা গ্রিনল্যান্ডবাসী।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডের জনগণের।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প ২০১৯ সালেও তার প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখনও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল—দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। বিবিসি

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪