রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তিনি কোনো সমস্যা দেখছেন না। সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনকে আশ্বস্ত করেছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়ার ইয়াবস। সাক্ষাতের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান।
প্রেস সচিব জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ক্যাম্পেইন করছে এবং করবে। এ বিষয়ে সরকার আইনি পরামর্শ নিয়েছে এবং শীর্ষস্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন এতে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই।
শফিকুল আলম বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতে আওয়ামী লীগ বা নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আলোচনার মূল বিষয় ছিল নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এ সময় বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার (রিফর্ম) এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।
ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান জানান, তাদের মিশন দেশের সর্বত্র বিস্তৃত থাকবে। তারা বড় রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলবে ও নির্বাচনী পরিবেশ মনিটর করবে।
প্রধান উপদেষ্টার বরাতে প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন ও গণভোট হবে ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল, পিসফুল এবং ফেস্টিভ। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, যাতে নির্বাচন সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়।
তিনি আরও বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত থাকবে এবং এ নিয়ে কোনো বড় সমস্যা হবে না বলে তিনি মনে করেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে থাকবে বডি-অন ক্যামেরা। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শরীরে লাগানো এসব ক্যামেরা দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হবে। একটি অ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও ঢাকা থেকে একযোগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
সব ভোটকেন্দ্রে থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা। দ্রুত অপরাধী শনাক্তে এটি সহায়ক হবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী থাকবে র্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন। এসব ব্যবহার করে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকরাও নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে। তবে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, তরুণদের মধ্যে ভোট দেওয়া নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তিনি ইইউকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি বড় এনডোর্সমেন্ট।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি