স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ৭ জুন দেশে পালিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আর ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর অস্থায়ী ও স্থায়ী পশুর হাটগুলোতে এরই মধ্যে গরু-ছাগল আসতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারীরা ট্রাক বোঝাই করে পশু নিয়ে রাজধানীতে ঢুকছেন বাজার ধরার আশায়।
তবে এখনও তেমন বেচাকেনা শুরু হয়নি রাজধানীর হাটগুলোতে। হাটে পশু থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। অনেকেই হাটে ঘুরে যাচ্ছেন, কিন্তু কেনার দিকে যাচ্ছেন না। হাটের বেচাকেনা একরকম নিস্তেজভাবেই চলছে।
এবার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় ২১ টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে অস্থায়ী হাট ১৯টি। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) বসবে ১০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) বসবে ৯টি অস্থায়ী হাট। ঈদুল আজহার দিনসহ মোট ৫ দিন নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে।
অস্থায়ী ১৯টি হাট ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় স্থায়ী গাবতলী হাট এবং দক্ষিণ সিটির আওতায় স্থায়ী সারুলিয়া হাটেও কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় হবে। এ হিসেবে এবছর ঈদুল আজহায় রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশু কেনা-বেচার জন্য মোট ২১টি স্থানে হাট থাকবে।
রোববার (১ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, এবারও ছোট থেকে মাঝারি আকারের গরুর সংখ্যাই বেশি। বড় গরু তুলনামূলক কম এসেছে। ব্যাপারীরা বলছেন, পরিবহন খরচ ও খাদ্য সংকটের কারণে বড় গরু আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সেইসাথে অনেক খামারিও এখন মধ্যম আকৃতির গরুর দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। কারণ হিসেবে তারা জানান, এগুলো বিক্রি তুলনামূলক সহজ।
হাটে আসা একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও প্রথমদিকে ক্রেতাসমাগম কম। বিষয়টি ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক ভাবেই দেখছেন। সাধারণত ঈদের আগের ২/৩ দিনেই মূল ক্রেতারা হাটে আসেন। তাই এখনো অনেক ব্যবসায়ী ঢাকায় পশু নিয়ে আসার পথে আছেন। শেষ সময়ে বেচাকেনা জমজমাট হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা।
রাজধানীর তেজগাঁও পশুর হাটে ক্রেতা জাফর ইকবাল বলেন, এখনো বাজার যাচাই করছি। দাম অনেকটাই বেশি মনে হচ্ছে। শেষ দিকে দাম কিছুটা কমতে পারে, তখনই কিনব।
আজাদ শেখ বলেন, এখনো ঈদের বেশ কিছুদিন বাকি আছে, বাড়িতে গরু রাখার ঝামেলা আছে তাই শেষের দিকেই কিনবো। এখন দেখতে আসছি, দেখছি তারা (ব্যাপারী) কেমন দাম চাচ্ছে, বাজেটের মধ্যে কেমন গরু কিনতে পারবো এসব বিবচনা করে পরেই কিনবো।
আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক ক্রেতারই একই মনোভাব-তারা বাজারের গতি-প্রকৃতি দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে চান।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা পশুর হাটগুলো ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পানির সরবরাহ, পশু রাখার জায়গা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু উন্নয়ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে বেচাকেনা শুরু না হওয়ায় এসব হাট এখনো অনেকটাই ফাঁকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পশুর দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা আগে থেকেই কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছেন। এরমধ্যে যদি ক্রেতা কম হয় বা শেষ মুহূর্তেও বাজার জমে না ওঠে, তাহলে লোকসান গুণতে হতে পারে।
তবে তারা আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন, আমরা প্রতিবছরই এমন পরিস্থিতি দেখি। শেষের দিকে হাটে ভিড় বাড়ে, তখনই আসল বেচাকেনা হয়। এখন ক্রেতার অপেক্ষায় আছি।
এদিকে সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাটে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে কিছুটা ভোগান্তির মধ্যেই সময় কাটছে ব্যবসায়ীদের। তার ওপর বেচাকেনা না হওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে কয়েকগুণ।
শেরপুর থেকে আসা এক গরু ব্যবসায়ী জানান, বৃষ্টি আর কাদার কারণে গরু ঠিক মতো রাখা যাচ্ছে না। আবার ক্রেতাও আসছে না, তাই চিন্তায় পড়েছি। খাবার, থাকার জায়গা সব মিলিয়ে খরচ বাড়ছে, কিন্তু বিক্রি নেই।
আরেক গরু ব্যবসায়ী জানান, সাধারণত ঈদের আগে শেষ দিকে বেচাকেনা হয়, কিন্তু এই অবস্থায় কতটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারব তা নিয়ে সংশয়ে আছি।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ