| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আল জাজিরা প্রতিবেদন

নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞা ও হাসিনার নির্বাসন: টিকে থাকবে কি আওয়ামী লীগ?

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ ইং | ১২:৪২:২৩:অপরাহ্ন  |  ১০৩৩২১৫ বার পঠিত
নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞা ও হাসিনার নির্বাসন: টিকে থাকবে কি আওয়ামী লীগ?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। দলটির ওপর রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাসনের প্রেক্ষাপটে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ ভোটের ব্যালটে না থাকায় দীর্ঘদিনের সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ থেকে শুরু করে দলটির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার-ব্যানার উধাও হয়ে গেছে।

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীপাড়ের জেলে রিপন মৃধা বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় ভোট নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন তিনি। তবে ভোট না দিলে দলীয় সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। তাঁর মতো অনেক সমর্থকই এখন ‘কাকে ভোট দেবেন’ এই প্রশ্নে দ্বিধায়।

অন্যদিকে, গোপালগঞ্জের রিকশাচালক সোলায়মান মিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নৌকা ছাড়া নির্বাচন মানে নির্বাচনই না। তাঁর পরিবার এবার ভোট দেবে না বলে জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে হাসিনার সরকারের আমলে সংঘটিত দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। এতে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ে।

ঢাকার গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন পরিত্যক্ত ও ভাঙাচোরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রকাশ্যে কেউ এখন আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিচয় দিতে সাহস পাচ্ছেন না।

তবে দলের ভেতরের একটি অংশ ভবিষ্যৎ প্রত্যাবর্তনের আশা ছাড়েনি। ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীরভাবে প্রোথিত সময় হলে দলটি আবার ফিরবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা অবশ্য ভিন্ন মত দিচ্ছেন। বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি বলেন, নির্বাচনের বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা ধীরে ধীরে স্থানীয় প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে মিশে যাবে। এতে দলটির পুনর্গঠন কঠিন হয়ে পড়বে। তাঁর মতে, হাসিনা থাক বা না থাক আওয়ামী লীগের আগের অবস্থানে ফেরা প্রায় অসম্ভব।

তবে কেউ কেউ মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো দল বারবার নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের পরও টিকে থাকার নজির আওয়ামী লীগের জন্য একটি সম্ভাব্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের মতে, আওয়ামী লীগ শুধু একটি দল নয় এর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি রয়েছে, যা একে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হতে দেবে না।

মার্কিন থিঙ্কট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের প্রতি এখনও প্রায় ১১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিত আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে দলগুলোর উত্থান-পতন দ্রুত ঘটে; তাই দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও আপাতত আওয়ামী লীগ কার্যত ‘রাজনীতির বাইরে’।

রাজবাড়ীর জেলে রিপন মৃধার কথায় ফুটে ওঠে সেই অনিশ্চয়তা,বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আওয়ামী লীগ সংকটে পড়েছিল বাবার মুখে সেই গল্প শুনেছি। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে, পুরো রাজনৈতিক অস্তিত্বটাই মুছে যাচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪