রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের জনপ্রিয় ও আলোচিত জুটি শাবনাজ ও নাঈম যাঁদের রোমান্টিক উপস্থিতি একসময় রুপালি পর্দা মাতিয়েছিল, তাদের ব্যক্তিগত জীবনও দীর্ঘদিন ধরেই দর্শক–ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
সময়ের সঙ্গে তারা ক্যামেরার আলো থেকে অনেকটাই দূরে থাকলেও এই তারকা দম্পতিকে ঘিরে ভালোবাসা আজও অটুট। বৈবাহিক জীবনের ৩১ বছর পূর্ণ করার রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁদের পরিবারে যোগ হলো আরও এক আনন্দঘন মুহূর্ত বড় মেয়ে মাহাদিয়া নাঈমের বিয়ে।
গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মাহাদিয়ার জীবনের নতুন পথচলা শুরু হয়। ঢাকার উত্তরায় পারিবারিক পরিসরে, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে তাঁর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় ইহসান মনসুর চৌধুরীর সঙ্গে। জাঁকজমকের বদলে ছিল সাদামাটা আয়োজন, যেখানে প্রাধান্য পেয়েছে পারিবারিক উষ্ণতা ও আন্তরিকতা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাবনাজ ও নাঈম নিজেই।
মাহাদিয়া নাঈম পড়াশোনার দিক থেকেও বেশ এগিয়ে। তিনি কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গেছেন তিনি। সেখানেই বসবাস করেন তাঁর জীবনসঙ্গী ইহসান মনসুর চৌধুরী। জানা গেছে, ইহসানের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে সিডনিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাহাদিয়া ও ইহসানের মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কই দুই পরিবারের সম্মতিতে পরিণতি পেয়েছে বৈবাহিক বন্ধনে। নতুন জীবনের শুরুতে পরিবারগুলোর সমর্থন তাঁদের জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
মেয়ের বিয়ের খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন নাঈম। তিনি নবদম্পতির জন্য সবার দোয়া কামনা করেন এবং এই আনন্দের মুহূর্তের জন্য আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মেয়েকে বিদায় দেওয়ার অনুভূতি প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, আগেও পড়াশোনার কারণে মাহাদিয়া দেশের বাইরে ছিল, তবে এবারের বিদায়টা ছিল ভিন্নরকম। বাবা হিসেবে মন খারাপ থাকলেও মেয়েকে একটি ভালো পরিবারে তুলে দিতে পেরেছেন এই স্বস্তিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড়।
অন্যদিকে মা হিসেবে শাবনাজের অনুভূতিও আবেগে ভরপুর। তিনি বলেন, সন্তানের চিন্তা মা–বাবার কাছে কখনো শেষ হয় না। তবে আলহামদুলিল্লাহ, মাহাদিয়ার জন্য তাঁরা শুধু একজন ভালো জীবনসঙ্গীই পাননি, পেয়েছেন একটি সুন্দর ও সহানুভূতিশীল পরিবারও। এতে তাঁদের মন অনেকটাই নিশ্চিন্ত।
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে দেখা যায় নাঈম ও শাবনাজকে। সেই ছবিই তাদের দুজনের তারকা হয়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি করে। পরবর্তীতে ‘বিষের বাঁশি’ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে পর্দার প্রেম বাস্তব জীবনের ভালোবাসায় রূপ নেয়। দীর্ঘ সেই ভালোবাসার পরিণতি ঘটে ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর যেদিন তারা বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন।
আজ তিন দশকেরও বেশি সময় পর, সেই ভালোবাসার গল্প নতুন প্রজন্মে পৌঁছে গেল তাঁদের মেয়ের জীবনের নতুন অধ্যায়ের মাধ্যমে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম