রিপোর্টার্স ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের জন্য এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা অন্যরকম কাটবে। এরই মধ্যে দলকে তাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ঈদুল আজহা উদ্যাপন করতে গ্রামের বাড়িতে যাবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ দলটির শীর্ষ অনেক নেতা। বুধবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে মুজিবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটি জানায়, দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঈদ উদযাপন করবেন মৌলভীবাজার জেলায় নিজ গ্রামে। নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ঈদ করবেন রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঈদ করবেন। এছাড়া নায়েবে আমির মাওলানা শামসুল ইসলাম ঈদ উদযাপন করবেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অবস্থান করবেন সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে। ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ঈদ করবেন কুমিল্লার লাকসামে।
এছাড়া সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান থাকবেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়,হামিদুর রহমান আযাদ থাকবেন ঢাকার বসুন্ধরায়, মাওলানা আবদুল হালিম থাকবেন চৌদ্দগ্রামের ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী গ্রামে।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল থাকবেন বরিশালে, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের থাকবেন সিলেটে এবং মাওলানা মো. শাহজাহান থাকবেন চট্টগ্রাম মহানগরীতে।
এছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যদের মধ্যে সাইফুল আলম খান মিলন, আবদুর রব ও মোবারক হোসাইন ঈদ করবেন ঢাকায়। অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ থাকবেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়, অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন থাকবেন বগুড়ায়। অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ থাকবেন সৌদি আরবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল থাকবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন থাকবেন সিলেটে।
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা আমিরের
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে আজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার স্ত্রী হযরত হাজেরা এবং তাদের প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের সামনে সমাগত। ঈদুল আজহা আমাদেরকে ত্যাগ ও কুরবানির আদর্শে উজ্জীবিত করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আল্লাহর উদ্দেশে সবকিছু ত্যাগ করে দেওয়ার চেতনা আমাদের মনে জাগ্রত করে। সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় কুরবানি আমাদেরকে অনুপ্রেরণা দেয়। ত্যাগ ও কুরবানির মানসিকতা নিয়ে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে গেলেও দেশ এখনো ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়নি। তারা বিদেশে বসে এবং দেশের ঘাপটিমেরে লুকিয়ে থেকে দেশে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেই যাচ্ছে। দেশে যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হতে পারে সেজন্য নানাভাবে বিতর্ক এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে সরকারকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সেই সাথে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং দেশবিরোধী সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবিক বাংলাদেশ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত দেশবাসীকে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আমরা হযরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তার স্ত্রী হযরত হাজেরা ও তাদের পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান ত্যাগের ইতিহাস গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। তাদের সেই ত্যাগের মহিমায় আমরাও যদি আল্লাহর এ জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য নিজেদের জানমাল ও প্রিয় বস্তুকে কুরবানি করতে পারি, তাহলেই আমাদের যাবতীয় ত্যাগ-কুরবানি আল্লাহর নিকট কবুল ও স্বার্থক হবে ইনশাআল্লাহ। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের জন্য আল্লাহর নিকট কায়মনোবাক্যে দোয়া করছি এবং দেশবাসী সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে আমার নিজের এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’