রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: তাপমাত্রার হঠাৎ ঊর্ধ্বগতিতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় জনজীবন অস্থির হয়ে উঠেছে। মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ, যা গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগের দিন একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা। জেলায় বিভিন্ন তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
তীব্র গরমের প্রভাবে শহরের কিছু সড়কের পিচ গলে উঠতে দেখা গেছে। পৌরসভার সামনে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।
মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। মাথা ঘুরে যায়। তেল নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আরেক চালক সুমন হোসেন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য যেমন কষ্ট, তার ওপর এই গরম দুটো মিলে অবস্থা খুব খারাপ।
শুধু চালকরাই নয়, দিনমজুরদের অবস্থাও করুণ হয়ে উঠেছে। তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
দিনমজুর আব্দুল মালেক বলেন, রোদ এত বেশি যে ঠিকমতো কাজ করা যায় না। তবুও পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে।
হাবিবুর রহমান নামের আরেক শ্রমিক জানান, এই গরমে কাজ করা খুব কষ্ট। একটু পরপরই বিশ্রাম নিতে হয়, কিন্তু তাতে আয় কমে যায়।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে। বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম