| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, চার কোটি টাকার ব্রিজে দুর্ভোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১২, ২০২৬ ইং | ২১:৪৯:০১:অপরাহ্ন  |  ৯৯৯ বার পঠিত
কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, চার কোটি টাকার ব্রিজে দুর্ভোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল পৌর এলাকার লৌহজং নদীর উপর নির্মিত কচুয়াডাঙ্গা-চরপাতুলী ব্রিজের কাজ ২ বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৪ বছরেও শেষ হয়নি। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সনি এন্টারপ্রাইজ ২০২০ সালে কাজটি শুরু করে। কার্যাদেশ অনুসারে ২০২২ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, চার বছরেও সম্পূর্ন কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্রিজের সম্পূর্ন কাজ শেষ না হওয়ার কারনে ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ।

জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে টাঙ্গাইল পৌরসভার অর্থায়নে প্রায়  চার কোটি টাকায় ব্রিজটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সনি এন্টারপ্রাইজ। ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট ও কার্নিশ নির্মান না করায় কোন কাজেই আসছেনা চার কোটি টাকায় নির্মিত ব্রিজটি। উপরন্তু এলাকাবাসীর গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে এ ব্রিজটি। নিমার্নাধীন ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে স্থানীয়রা বাঁশের মই বেয়ে পারাপার হচ্ছে। কতিপয় লোকজন মই বেয়ে ব্রিজে উঠে পারাপার হলেও অধিকাংশ মানুষ  দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করে। বৃদ্ধ, শিশু ও নারীরা সুউচ্চ এ ব্রিজে মই বেয়ে উঠতে না পেরে দীর্ঘ এক কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করে। এছাড়া মৃতদেহ দাফন করতে এপাড়ের মানুষকে অনেক রাস্তা ঘুরে কবরস্থানে যেতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না করে কাজ বন্ধ রাখায় স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না এ ব্রিজটি। দু’পাশে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। আশেপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। জীবনের ঝুকি নিয়ে মই দিয়ে পারপার হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় পণ্য পরিবহণে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যাসায়ী নূর নবী বলেন, ঠিকাদার কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে। ব্রিজটি চালু না হওয়ায় আমাদের চলাচলে কষ্ট থেকেই গেল। অসুস্থ মানুষ, মরদেহ আনা-নেওয়া করতে সমস্যা হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই মই দিয়ে ব্রিজে উঠতে-নামতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। মাঝে-মধ্যে বাঁশ ভেঙে গেলে যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় যুবক সুমন মিয়া বলেন, ব্রিজ নির্মাণ হলেও দু’পাশে মাটি ভরাট করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতিপূর্বে মই দিয়ে ব্রিজে উঠতে গিয়ে পায়ে লোহার পেরেক ডুকে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিকার চেয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাঁশের সাঁকো সরিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও দুই পাশে অ্যাপ্রোচের মাটি ভরাট করেনি। অসমাপ্ত কাজ রেখে ঠিকাদার চলে গেছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সনি এন্টারপ্রাইজের মালিক আসাদুল্লাহ খান সাঈদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। 

টাঙ্গাইল পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী মো.মনিরুল ইসলাম জানান,টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কচুয়া ডাঙ্গা –চরপাতুুলী ব্রিজটির সংশোধিত সংযোগ সড়ক নির্মানের জন্য প্রাক্কলন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪