সিনিয়র রিপোর্টার: মুগদা মেডিকেল কলেজের (মুমেক) সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে বদলির পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে না দিয়ে ১৩ দিন পর বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। সর্বশেষ তাকে মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার (১৪ এপ্রিল) এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ এক আদেশে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে মুমেকের অধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে বদলি করা হয়। তিনি ১ এপ্রিল মুমেক থেকে রিলিজ নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য আবেদন করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে ১৩ দিন পর তাকে ওএসডি করে মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে সংযুক্ত করা হয়।
জানা যায়, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক জটিলতা নিরসনে ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘদিন বকেয়া থাকা শিক্ষক ও আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন পরিশোধসহ একাধিক প্রশাসনিক উদ্যোগ নেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধার জন্য একটি বাস সংগ্রহের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়।
মুমেকের একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চিকিৎসকদের সুপারনিউমারারি পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে মাত্র দুই মাস ২০ দিনের মাথায় তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৪ সালে পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে কর্মরত অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও অর্থ সহায়তার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ প্রেক্ষিতে তাকে পদাবনতি দিয়ে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়। পরে সমালোচনার মুখে ওই বছরের ১১ আগস্ট সেই আদেশ বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ ও ২০১৩ সালে পদোন্ননা থেকে বঞ্চিত হন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। ২০২১ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেলেও একদিনের মধ্যে সেই আদেশ বাতিল করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি