| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশুহত্যা রহস্য উদঘাটন, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২০, ২০২৬ ইং | ০৩:০৯:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ৪৯৭ বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশুহত্যা রহস্য উদঘাটন, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সৌদি প্রবাসীর ৬ বছর বয়সী কন্যা শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) পিবিআই সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে সৌদি প্রবাসী মো. আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে নিশাত জাহান (৬) বাড়ির পাশের দোকানে চিপস কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ওই রাতেই শিশুটির মা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের দুই দিন পর ১৭ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির পাশের একটি পতিত জমি থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তাৎক্ষণিকভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস (সিডিআর) বিশ্লেষণ এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় অটোরিকশাচালক মো. ইছা মিয়া (২৯)-এর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়।

পরবর্তীতে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি এবং প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করছিলেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে ইছা মিয়া স্বীকার করেন, ঘটনার দিন তিনি শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন। একপর্যায়ে রাতে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। শিশুটি চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তিনি ভয় পেয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন।

হত্যার পর লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নিজ ঘরে লুকিয়ে রাখেন। পরদিন গভীর রাতে সুযোগ বুঝে পাশের একটি বিলে মরদেহটি ফেলে দেন, যাতে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া যায়।

বর্তমানে গ্রেপ্তার আসামি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪