স্টাফ রিপোর্টার: দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি মাসে তৃতীয় দফায় ৭ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ওয়েল ডিপোর রিসিপ্ট টার্মিনালে এই চালান পৌঁছাবে। ভারত থেকে সরাসরি ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আসায় উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) কাজী রবিউল আলম জানান, সোমবার রাত ৮টা থেকে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়। প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে এটি পার্বতীপুরে পৌঁছাবে।
তিনি আরও জানান, আমদানিকৃত এই জ্বালানি পরে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিন তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে।
চলতি এপ্রিল মাসেই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ১৩ হাজার টন ডিজেল দেশে এসেছে। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল ৮ হাজার টন এবং ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার টনের দুটি চালান পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। মাসজুড়ে মোট চারটি চালানে ২৫ হাজার টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে।
এর আগে মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে আরও ২২ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়। ফলে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টনে।
২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করবে।
বর্তমানে বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ শুরু হওয়ায় সময় ও পরিবহন ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি