| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কালাইয়ে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ইং | ২০:২৬:০৬:অপরাহ্ন  |  ১০৪০ বার পঠিত
কালাইয়ে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কালাই(জয়পুরহাট)প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুর এম ইউ ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রত্যয়নপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে অনিয়ম, জমি লিজে স্বেচ্ছাচারিতা এবং প্রতিষ্ঠানের যানবাহন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতী সাহেব আলীর কাছে শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তি, চাকরির আবেদন বা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে প্রত্যয়নপত্র নিতে গেলে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে নানা অজুহাতে প্রত্যয়নপত্র দিতে বিলম্ব করা হয়। এতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিভাবক জানান, অধ্যক্ষের নির্দেশে অফিস সহকারী জহুরুল ইসলাম অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবের অভিভাবক আমজাদ হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে ছেলের প্রত্যয়নপত্র নিতে গেলে জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে নামের অমিল দেখিয়ে ২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। অথচ একই জন্মনিবন্ধন দিয়েই তাকে ভর্তি নেওয়া হয়েছিল।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগের অভিভাবক সাহিদা বেগম বলেন, প্রত্যয়নপত্র নিতে গেলে আমার কাছেও ১ হাজার টাকা চাওয়া হয়। দিতে না পারায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকের অভিভাবক নূরনবী অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী আমাকে হুমকি দেন এবং মারধর করেন। বিষয়টি জানাজানি হলেও তখন কোন বিচার পাইনি। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পায় না। 

এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য কেনা একটি লেগুনা ও একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে মাইক্রোবাসটি নিয়মিত অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসার জমি লিজ, উন্নয়ন খাত ও অন্যান্য তহবিলের অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও শিক্ষক বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিনের সময়ে রেখে যাওয়া অর্থ এবং বর্তমানে জমিসহ বিভিন্ন খাতের টাকার সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেও কয়েকটি ইজিবাইক ভাড়ায় নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হচ্ছে । ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

তাদের আরও অভিযোগ, পরপর দুইবার এডহক কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছামতো পরিচালনা করা হচ্ছে যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মুফতী সাহেব আলী বলেন, আপনারা আসেন, বসে কথা বলি। আমি দোষী প্রমাণিত হলে যা ব্যবস্থা নেওয়ার, নেবেন।

মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন নূরী বলেন, আমি অবসরে যাওয়ার সময় মাদ্রাসা ফান্ডে ১১ লাখ টাকা রেখে যাই। এছাড়া ৪২ বিঘা জমি থেকে বছরে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা লিজ বাবদ আয় হতো, যা ব্যাংকে জমা রেখে কমিটির পরামর্শে ব্যয় করা হতো।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুনছুর রহমান বলেন,আমি নতুন এসেছি, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আমি নিজেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও এডহক কমিটির সভাপতি বিপুল কুমার বলেন, “আমি অনেক দিন ধরে কোনো সভা করিনি। আমি এখনো দায়িত্বে আছি কিনা সেটিও দেখতে হবে। অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই।

এদিকে অভিযোগের পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪