চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার পর শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই নগরের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়। হিজড়া খাল ও জামালখান খালের চলমান সংস্কারকাজের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। খালের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে না পেরে আশপাশের সড়ক ও অলিগলিতে উপচে পড়ে। কোথাও কোথাও ভবনের নিচতলা ও বাসার ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ে।
বৃষ্টির পানিতে হিজড়া খাল সংলগ্ন প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, চকবাজার তেলীপট্টি রোড, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা ও শুলকবহরসহ বিভিন্ন এলাকায় কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
এছাড়া মহানগরের হালিশহর, ইপিজেড, আগ্রাবাদ, রহমতগঞ্জ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, জঙ্গীশাহ মাজার, চকবাজার ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকাসহ বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। অন্যদিকে জামালখান খাল সংলগ্ন হেমসেন লেইন, শরীফ কলোনি ও আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবর্তক মোড়ের কাছে সড়কে জমে থাকা পানিতে যানবাহন আটকা পড়ে। কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের ওপরই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেককে কোমর থেকে গলা সমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে সড়কের ডিভাইডার ধরে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ২৬টি খালের কাজ শতভাগ এবং ৭টি খালের ৯০ থেকে ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে হিজড়া, জামালখান ও রামপুর—এই তিনটি খালের কাজ চলমান রয়েছে।
সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, হিজড়া খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, খাল পুনরুদ্ধার ও নালা নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে নগরবাসী প্রকল্পের সুফল পাবে।
এদিকে পরিস্থিতি দেখতে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৫ মে’র মধ্যে খালগুলোর সংস্কারকাজ শেষ হবে।
তিনি বলেন, খাল সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে কাজ শেষ হলে খালগুলো জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট একনেকে জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল এর কাজ শুরু হয়। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধন করে বাড়িয়ে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা করা হয়। বর্তমানে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।