| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বসতি ও বিকল্প ফসলে কমছে চাঁদপুরের সেচ প্রকল্পের ২৭ হাজার হেক্টর জমি

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১৪, ২০২৬ ইং | ১৮:৩৮:৪৩:অপরাহ্ন  |  ৯৬৫ বার পঠিত
বসতি ও বিকল্প ফসলে কমছে চাঁদপুরের সেচ প্রকল্পের ২৭ হাজার হেক্টর জমি

চাঁদপুর প্রতিনিধি: বোরো আবাদ না করে অন্য ফসল উৎপাদন এবং জমিতে বসতি গড়ে তোলার কারণে চাঁদপুরের দুটি সেচ প্রকল্পে ২৭ হাজার হেক্টর সেচযোগ্য জমি হ্রাস পেয়েছে। পূর্বে ১৬০ কিলোমিটার বাঁধের দুটি সেচ প্রকল্পে সেচযোগ্য জমি ছিলো ৪২ হাজার হেক্টর। পাশাপাশি সেচ প্রকল্পের খালগুলো অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সহস্রাধিক। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে খালগুলো পুনর্বাসনের জন্য প্রকল্প এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

জেলার ফরিদগঞ্জ, সদর, হাইমচর এলাকার চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এবং মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প ঘুরে কৃষক, ভুক্তভোগী ও প্রকল্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানাগেছে, চাঁদপুর জেলায় দুটি সেচ প্রকল্প বোরো ও রবিশস্য উৎপাদনে অন্যতম সহায়ক। এর মধ্যে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পে ১০০ কিলোমিটার বাঁধে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারী ৭ হাজার কিলোমিটার খাল প্রবাহমান ছিলো। বর্তমানে সেচযোগ্য খাল রয়েছে ৪ হাজার কিলোমিটার। বাকি খাল ভরাট ও অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। 

অপরদিকে মতলব উত্তরে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ১৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৪৭টি খাল ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিস্কাশন খালগুলোর মধ্যে বাজার কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে ৭ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। যার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংব অতিবৃষ্টিতে দেখা দিলে জলাবদ্ধতার শিকার হন কৃষকরা।

মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ফতেপুর ইউনিয়নের কৃষক মোখলেছুর রহমান বলেন, এই ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সরকারি খাল দখল করে ঘরবাড়ি তৈরী হয়েছে। কেউ খালের মধ্যে মাছ চাষ করে বাধ দিয়েছে। এসব কারণে পানি আটকিয়ে থাকে এবং কৃষকদের সর্বনাশ হয়। 

একই এলাকার কৃষক মো. শওকত বলেন, আমাদের এলাকার খালগুলো খনন করার দরকার। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়ে পানি আটকে থাকে। খাল এবং নদীতে কচুরিপানা। এগুলোও পরিস্কার করা হয় না। খালের অর্ধেক দখল করে বাড়ি ঘর তৈরী করে রেখেছে। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা আরো ভোগান্তির মধ্যে পড়বে।

চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের চান্দ্রা বাজার এলাকা বাসিন্দা আলী আহমেদ বলেন, বাজার সংলগ্ন এই খাল বিগত ২৫ থেকে ৩০ বছর পূর্বে খনন হয়েছে। এখন আর খালে নৌকাও চলে না এবং পানি প্রবাহ নেই। এটি খুব জরুরি খনন করা প্রয়োজন।

পাশের মদনের গাঁও গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, অধিকাংশ খাল দখল করে লোকজন স্থাপনা তৈরী করেছে। ৮০ দশকে খাল খনন হয়েছে। এরপর আর রক্ষনাবেক্ষণ নেই। এখন আবার এসব খাল পুন:সংস্কার প্রয়োজন। 

একই গ্রামের কৃষক হাসান গাজী বলেন, বহু বছর খাল খনন হয় না। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হয়। ধান সহ অনেক ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারকে কৃষকদের সব বিষয় গুরুত্ব দেয়া দরকার। কারণ আমরা পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করি। 

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ নেই। খালগুলো খনন না হওয়ার কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর। কৃষকদের সুবিধার্থে এসব খাল খনন খুবই জরুরি।

চাঁদপুর সেচ প্রকল্প সম্পর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহরুল ইসলাম বলেন, খালগুলো সচল করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে একটি প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য তালিকা জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অবৈধ স্থাপনাগুলো আর থাকবে না।

মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম সাহেদ বলেন, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার প্রকল্প এলাকায় ১৩৫ কিলোমিটার খাল পুন:খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়মিত কাজের অংশ। উচ্ছেদের কাজও শুরু হবে খুব শিগগিরই।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু  

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪