ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশু এবং চলন্ত মাহেন্দ্র ট্রাক্টর থেকে ছিটকে পড়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার জেলার রুহিয়া ও সদর থানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। নিহতদের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ সুরতহাল শেষে লাশ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর পৌনে ১টার দিকে রুহিয়া থানার আরাজি দক্ষিণ বাটিনা (বোনিয়াপাড়া) গ্রামের মো. শামীম আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (১২) বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির অদূরে ঢোলারহাট গোল্লাল বাবুর পুকুরে গোসল করতে নামে। সাইফুল সাঁতার না জানার কারণে একপর্যায়ে পুকুরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে বন্ধুরা ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দুপুর দেড়টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাইফুলের পরিবার জানায়, তার মা-বাবা দুজনই জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এ ঘটনায় রুহিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (মামলা নং-৩৯) হয়েছে।
অপরদিকে, একই দিন বিকেলে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ-ফেরসাডাঙ্গী সড়কের শারালী গ্রামের দুন্দুর মোড় এলাকায় চলন্ত মাহেন্দ্র ট্রাক্টর থেকে ছিটকে পড়ে রিপন (২২) নামের এক চালকের সহকারীর (হেলপার) মৃত্যু হয়েছে। নিহত রিপন উপজেলার শিবগঞ্জ পূর্ব পারপুগী গ্রামের মো. নুর আলমের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে মাহেন্দ্র ট্রাক্টরটি বালু আনার জন্য ফেরসাডাঙ্গী যাওয়ার পথে কালির থানের সামনে পৌঁছালে বাম পাশে বসে থাকা রিপন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাকা রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন। এতে তাঁর শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। চালক ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (মামলা নং-৩৯/২৬) দায়ের করা হয়েছে।
রুহিয়া ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, দুটি ঘটনাই অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনা হওয়ায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ দুটি দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু