| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মাদরাসায় যৌন-নিপীড়ন আছে, নীরব থাকলে সমাধান হবেনা: আহমাদুল্লাহ

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৩, ২০২৬ ইং | ২১:৩০:৪৯:অপরাহ্ন  |  ২১৫ বার পঠিত
মাদরাসায় যৌন-নিপীড়ন আছে, নীরব থাকলে সমাধান হবেনা: আহমাদুল্লাহ

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতি দেশজুড়ে যখন শিশু ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা ব্যপভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থা নিরসনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ।

শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন।

পোস্টে তিনি লিখেন, আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানাবিধ অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের উপায় নেই। মাদরাসায় যৌন নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। হজে সফরে শেষ করে বিস্তারিত প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা পেশ করার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ বিষয় ফেসবুকে পোস্টের কমেন্টে রামিসার নৃশংস ঘটনার প্রসঙ্গটেনে তিনি উল্লেখ করেন, রামিসার নৃশংস ঘটনা নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, আমি তখন হজের সফরের উদ্দেশে ঢাকা এয়ারপোর্টে। এয়ারপোর্টে থাকা অবস্থায়ই এ নিয়ে সংক্ষিপ্ত পোস্ট করি।

আবাসিক মাদরাসায় যৌন-অনাচার কমবেশি আছে, এটা অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই। আমরা যদি এ বিষয়ে নীরব থাকি বা উপেক্ষা করি, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং সমস্যা আরো বাড়বে। আর এ কারণেই নানা সময়ে এই অনাচার বন্ধে আমি লেখালেখি করেছি।

যৌন-নিপীড়ন নিরসনে পরামর্শ দেন তিনি,  মাদরাসার প্রতিটি কক্ষ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, যথাযথ শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা ও নিয়মতান্ত্রিক ছুটি, শ্রেণীকক্ষ ও আবাসন একসঙ্গে না রাখা, শিক্ষার্থীদের ঢালাও বিছানার পদ্ধতি বন্ধ করে পৃথক খাটের ব্যবস্থা, মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক ও স্টাফ নিয়োগ না দেয়াসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ।

তিনি সতর্ক করে আরো উল্লেখ করেন, তবে এটাও মনে রাখতে হবে, আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বলাৎকারের ঘটনা যে ঘটে, সেটা যেমন সত্য, অনেক ক্ষেত্রে মিডিয়া সত্যের সাথে মিথ্যার রং মাখায় সেটাও সত্য। আবার কিছু কিছু জায়গায় অন্যকে রক্ষা করতে দুর্বল ইমাম বা আলেমকে ফাঁসানো হয়। যেমন সম্প্রতি ফেনীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক। ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে ইমামের নয়, বরং কিশোরীর বড় ভাইয়ের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।

আবার প্রমিনেন্ট এবং বড় বড় মাদরাসায় এই ধরনের অভিযোগ তেমন শোনা যায় না। বরং মূল স্রোতের বাইরে কিন্ডার গার্টেনগুলোর মতো অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট ছোট মাদরাসাতেই এই ধরনের ঘটনার কথা বেশি শোনা যায়।

তবে ঘটনা ছোট মাদরাসায় ঘটুক কিংবা বড় মাদরাসায়, এইসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সমস্যা সমাধানে তিনি প্রস্তাব করেন, হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আলেম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্টদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করা হোক। যেখানেই এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাবে, এই কমিশন সেখানে ছুটে যাবে এবং সরেজমিন তদন্ত করবে। তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে অপরাধীকে বিচারের মুখামুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর কোনো মাদরাসায় যেন চাকরি নিতে না পারে তার জন্য ব্ল্যাকলিস্টে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।

আর যদি ঘটনা ভিন্ন হয়, সেটাও সংবাদ সম্মেলন করে জাতির সামনে উত্থাপন করবে। এতে একদিকে যেমন এ ধরনের অপরাধের ঘটনা কমে আসবে, সেই সাথে এগুলো কোনটা বাস্তব আর কোনটা ষড়যন্ত্র সেটাও জাতির সামনে পরিষ্কার হবে তিনি আশাবাদী।

হজের সফর শেষে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত পরিকল্পনা পেশ করার ইচ্ছা আছে বলে জানান তিনি।

রিপোর্টার্স২৪/ফয়সাল

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪