সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্বদেলুয়ায় সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ ও রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে সরকারি সম্পত্তির ওপর অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। এমনকি প্রশাসনের দেওয়া সরকারি সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও প্রকাশ্যে খুলে ফেলা হয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের পূর্বদেলুয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পূর্বদেলুয়া মৌজার জেএল নং-৮৪, এসএ খতিয়ান-২৫৯, আরএস খতিয়ান-৬৮, এসএ দাগ-১৬৫৮ ও আরএস দাগ-৩১৬৩ ‘ক’ গেজেটভুক্ত প্রায় ২৯ শতাংশ সরকারি জায়গার মধ্যে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ একটি প্রভাবশালী চক্র। বাকি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা দখলে রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের। ইতোমধ্যে ভবনের একতলার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়টি স্থানীয়রা একাধিকবার বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জায়গাটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত করে সেখানে একটি সরকারি সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। তবে অভিযুক্তরা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে সেই সাইনবোর্ড খুলে ফেলে নির্মাণকাজ চালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এরপরও উপজেলা ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “সরকারি সাইনবোর্ড খুলে ফেলার পরও প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এতে মনে হচ্ছে, কোনো অদৃশ্য শক্তির ইশারায় দখলদাররা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে দিন-রাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।”
বিষয়টি বড়হর ভূমি অফিস সংশ্লিষ্টরাও স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার রিমা বলেন, “নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম এবং নোটিশ বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে দেখি, নোটিশ বোর্ড খুলে নিয়ে গেছে। এখন আবার নতুন করে নোটিশ বোর্ড ঝুলানো হয়েছে।” বিল্ডিং উঠে যাওয়ার পর প্রশাসনের করণীয় কী—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।”
স্থানীয়রা জানান, সাইনবোর্ড খুলে ফেলার পর আবারও সাইনবোর্ড লাগিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু নির্মাণকাজ এখনো চলমান। প্রশাসন শুধু দায়সারা কাজ করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন