ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় নতুন মোবাইল কিনে না দেওয়ায় পরিবারের ওপর অভিমান করে পূজা রানী (১৮) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার দুপুরে উপজেলার ১০ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের মহাব্বতপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পূজা রানী মহাব্বতপুর গ্রামের কৃষক নকুল পালের ছোট মেয়ে। তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কলেজ বন্ধ থাকায় গত কয়েকদিন ধরে পূজা নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি তিনি মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত কথা বলা শুরু করলে পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ আগে পূজার কাছ থেকে তাঁর ব্যবহৃত ফোনটি কেড়ে নেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকেই পূজা একটি নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য বাবার কাছে জেদ ধরে আসছিলেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর বাবা পরে ফোন কিনে দেওয়ার কথা জানান। এতে পরিবারের ওপর অভিমান করেন পূজা।
আজ দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পূজার বাবা নকুল পাল স্থানীয় নেকমরদ বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি খবর পান, তাঁর মেয়ে শোবার ঘরের তালের কাঠের আড়ার (সরের) সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বাড়িতে ফিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও আত্মীয়দের সহায়তায় পূজাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামান। পরে একজন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসককে ডেকে আনা হলে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পূজাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় পূজার মা বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর পূজার বাবা নকুল পাল ঠাকুরগাঁও সদর থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত আবেদন (মৃত্যুর সংবাদ সংক্রান্ত) জমা দেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ার কারণে পরিবারের প্রতি অভিমান করেই তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নেই।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু