গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা স্টেশন এলাকায় রেললাইনের ওপর খড় শুকাতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের পরিদর্শন টিমের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কামাল উদ্দিন।
তিনি জানান, লালমনিরহাট রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে সোমবার রাতে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ গ্রামের মৃত গণেশ চন্দ্রের ছেলে শ্রী নিশি কুমার (৬৫), তার ছেলে বিপুল কুমার (৪২) ও শিপুল কুমার (৩৭), একই গ্রামের হৃদয় চন্দ্রের ছেলে নয়ন চন্দ্র (৩৭), আজহারুলের ছেলে রাজু (৪২) এবং গেইটসংলগ্ন মুদি দোকানদার শ্যামল (৩৮)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রেললাইনের ওপর খড় শুকানোর কারণে ট্রেনের ইঞ্জিনের চাকা স্লিপ করা, ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়া ও আগুন লাগার মতো ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে রেললাইন থেকে খড় সরিয়ে দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাউনিয়া থেকে বোনারপাড়া অভিমুখে রেললাইন পরিদর্শনে যান। এ সময় বিভিন্ন স্থানে লাইনের ওপর শুকাতে দেওয়া খড় সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বামনডাঙ্গা রেলস্টেশনের উত্তর পাশে টি/৯৭-এফ লেভেল ক্রসিং গেইটসংলগ্ন এলাকায় ট্রলিম্যানরা রেললাইনের ওপর থাকা খড় সরিয়ে দিলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে পরিদর্শন টিমের ওপর হামলা চালায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে বিভাগীয় প্রকৌশলীকে লাঠি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে। পরে বাদী আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যরা বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয় এবং পরিদর্শন কাজে ব্যবহৃত ট্রলিও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বোরো মৌসুমে ওই এলাকায় স্থানীয়রা রেললাইনের ওপর খড় শুকিয়ে থাকেন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রেলওয়ের কর্মীরা তাদের বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি