রংপুর প্রতিনিধি: দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে থেকে ঢাকা থেকে সড়ক পথে বুধবার (২৭ মে) দুপুরে পৈতৃক নিবাস রংপুরে এসেছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি রংপুরে ঈদ উদযাপন করতে এবং পশু কোরবানি দেওয়ার জন্যই রংপুরে এসেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিমানেই ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসার কথা ছিল জিএম কাদেরের। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়া এবং বিমান ছাড়ার অনিশ্চয়তার জন্য মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টায় নিজের গাড়িতে করেই ঢাকার বাসা থেকে ব্যক্তিগত সহকারী আবু তৈয়বকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। ঢাকা থেকে আসার পথে চন্দ্রা এরপর টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জেই তাকে গাড়িতে বসেই রাত কাটাতে হয়। ওই সব এলাকায় ভয়াবহ যানজট ছিল, ফলে তাকে যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হয়।
বুধবার সকালে বগুড়া থেকে রংপুরের দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। রংপুর নগরীর পৈতৃক নিবাস নিউ সেনপাড়ায় অবস্থিত স্কাই ভিউ বাসায় এসে পৌঁছান বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। তারপর জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর নেতারা তাকে রিসিভ করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসায় এলেও তিনি আর বের হননি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা) তিনি তার ঘরেই বিশ্রাম নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু বুধবার সন্ধ্যায় এ প্রতিনিধিকে জানান, দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা ধরে ঢাকা থেকে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে যানজটে আটকা পড়ায় শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। সে জন্যই বিশ্রাম নিচ্ছেন তিনি। তবে রাতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় হতে পারে তার বাসাতেই।
জি এম কাদেরের যত কর্মসূচি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন ১১ দলীয় জোট ও জামায়াত প্রার্থী মাহবুবার রহমানের বেলালের কাছে। ভোটের পরের দিন অনেকটা নীরবেই রংপুর ত্যাগ করে ঢাকায় যান। এরপর দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় পর রংপুরে ঈদ উদযাপন করতে এসেছেন।
জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, বৃহস্পতিবার তিনি রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এরপর মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। এরপর তিনি নগরীর মুন্সিপাড়ায় তার মরহুম বাবা মার কবর জিয়ারত করবেন। সেখান থেকে নগরীর দর্শনা এলাকায় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তার বড় ভাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত করবেন।
এদিকে কোরবানি ঈদ উপলক্ষে চারটি গরু কোরবানি দেওয়া হবে। এর মধ্যে একটি নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় রিকশাশ্রমিক ইউনিয়নের জন্য। একটি নগরীর পার্কের মোড় এলাকায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত এরশাদ নগরের অধিবাসীদের জন্য। এ ছাড়াও মহানগর ও জেলা জাপার জন্য চার লাখ টাকা দিয়ে দুটি বড় গরু কেনা হয়েছে। ওই গরু দুটি স্কাই ভিউ বাসার পেছনেই নিজস্ব জায়গায় কোরবানি দেওয়া হবে।
কোরবানির গোস্ত দলের অসচ্ছল নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাপার এই নেতা। এ ছাড়া ঈদের দিন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্কাই ভিউ বাসাতেই শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-৩ আসনটি ১৯৯১ সাল থেকে জাপার দখলে থাকলেও এবারই প্রথম আসনটি হাত ছাড়া হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা করতে আগামী স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে দলের প্রার্থী নির্বাচন, দলকে সংগঠিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন জি এম কাদের। বিশেষ করে রংপুর সিটি করপোরেশনে দুই বারের নির্বাচিত মেয়র মহানগর সভাপতি ও দলের কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন- তার বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করতে পারেন বলেও জানা গেছে।
তবে দলীয় কার্যালয়ে আগমন বা নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মী সমাবেশ করবেন না বলে জানা গেছে। তিনি ঈদের একদিন পর শনিবার আবারও ঢাকা ফিরে যাবেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির জানান, তিনি চোখে ভাইরাসজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেননি। তবে এবার মূলত ঈদ উদযাপন আর পশু কোরবানি দেবেন। আর আনুষ্ঠানিক কোনও কর্মসূচি নেই। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।