রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, জাতীয় সংসদে তার কার্যকর উপস্থিতি ও ভূমিকার কারণে তার পদমর্যাদা অনেক মন্ত্রীর চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে।
রোববার (৩১ মে) চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাহের বলেন, সংসদে অনেক মন্ত্রী অধিবেশন চলাকালে মাসে একবার কথা বলার সুযোগ পান। অথচ আমি প্রায় প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার বক্তব্য রাখি। সেই বিবেচনায় আমার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে তার সরকারি মর্যাদা প্রতিমন্ত্রীর সমতুল্য। সরকারি প্রটোকল, গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার এবং নিরাপত্তা সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলে থেকেও এ ধরনের মর্যাদা পাওয়া রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নিজ নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তাহের দাবি করেন, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার গুরুত্ব বেশি। এ কারণে এলাকার উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়, চৌদ্দগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে ১২০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছি। নির্বাচন শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে আরও ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ নিশ্চিত করেছি।
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ইঙ্গিত বহন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও বড় ভূমিকা রাখবে।
চৌদ্দগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাহের বলেন, এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসা।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের ছয় মাস সময় দিলাম। এই সময়ের মধ্যে অন্য কোনো বৈধ পেশায় চলে যান। এরপরও যদি অপরাধের পথ না ছাড়েন, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি স্থানীয় জনগণকে অপরাধবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার নেতৃত্বেই মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম