ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানিরা শক্তিশালী এবং অহংকারী, তাই তারা যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে রাজি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (৫ জুন) সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের নেতারা চলমান যুদ্ধ শেষ করতে আমেরিকার সঙ্গে এখনও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাননি। কারণ, তারা শক্তিশালী এবং অহংকারী গর্বিত। তার এমন কিছু কাজ করেছে, যা তারা কখনো ভাবেনি। কিন্তু এখন তাদের তা করতে হবে। এতে কিছুটা সময় লাগবে। শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছানো ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।
এ সময় ট্রাম্প সংঘাত নিরসনে ইরানের সঙ্গে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যারা তাকে চাপ দিচ্ছেন, তাদের সমালোচনা করে বলেন, এসব কাজ করতে বছরের পর বছর সময় লাগে। এই লোকেরা (ইরানি) ৪৭ বছর ধরে যুদ্ধ করছে। তারা আমেরিকানদের হত্যা করছে। তারা তাদের পা ও হাত কেটে ফেলছে এবং তাদের মুখমণ্ডল অত্যন্ত ভয়াবহ ও মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে।
তিনি এই সংঘাতের সময়কালকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি। তিন মাস হয়ে গেছে। জানেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলেছিল ১৯ বছর। আমার তৃতীয় মাস চলছে, আর ওরা শুধু বলে, ‘আরে, আপনি কবে জিতবেন?’ আমি যদি ডেমোক্র্যাট হতাম, তাহলে কেউ এভাবে কথা বলত না, কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি এতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
ট্রাম্প আরও বলেন, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে’। বেশির ভাগ ড্রোন কারখানা, বেশির ভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এলাকা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনও উৎপাদন ক্ষমতা আছে। ইরানের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও কিছু ড্রোন আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বলব, শতাংশের হিসাবে তাদের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের হয়তো ২১ থেকে ২২ শতাংশ। এটা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র, কিন্তু আমরা যখন প্রথম আক্রমণ করেছিলাম তখন পরিস্থিতি এমন ছিল না।’
গত সপ্তাহের শুরুতে ইরান পারস্য উপসাগর অঞ্চলে একাধিক হামলা চালায়। এসব হামলার মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আঘাত করা হয়। এর মাধ্যমে ইরান দেখাতে চেয়েছে যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা এখনও বজায় আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সমালোচক। তিনি ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা প্রয়োজন ছিল।
বুধবার নিউইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার পর যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ আরোপ করেছে, তা লেবার ডে পর্যন্ত বহাল থাকার সম্ভাবনা কম।
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা হয় একটি চুক্তি করব, নয়তো অন্য পথ বেছে নেব। আর সেই অন্য পথ মোটেও ভালো নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনা চলার মধ্যেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। গত সপ্তাহে এই সংঘাতের চতুর্থ মাস শুরু হয়েছে।
এপ্রিল মাসে দুই দেশ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। পরে সেটি কয়েক দফা বাড়ানো হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় আবার উত্তেজনা বেড়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার আইনপ্রণেতাদের জানান যে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র যে হামলাগুলো চালিয়েছে, সেগুলো ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’।
তার দাবি, হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শুধু ড্রোন নয়, ড্রোন পরিচালনাকারীদেরও লক্ষ্যবস্তু করে। ইরান যদি জাহাজে হামলা না চালাত, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও হামলা চালাত না। তবে নিজেদের বাহিনীকে রক্ষা করতে জবাব দেওয়া প্রয়োজন ছিল।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব