| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পুলিশ হত্যা করা সেই মাহদী আশ্রয় নিলেন থানায়

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১০, ২০২৬ ইং | ১২:৪৮:৩৯:অপরাহ্ন  |  ১১৪৪০৭ বার পঠিত
পুলিশ হত্যা করা সেই মাহদী আশ্রয় নিলেন থানায়

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: ‘পুলিশকে হত্যা করেছি’ বলে ঘোষণা দেওয়া হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান এবার থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে তিনি থানায় প্রবেশ করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। 

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় প্রবেশ করেন।

লাইভে মাহদী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের জেরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে হামলার চেষ্টা করছেন। তবে লাইভের দৃশ্য ও আশপাশে কোনো লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়নি বলে ছাত্রদল দাবি করেছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক খান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের একটি জরুরি বৈঠক চলছে।

পরে সদর মডেল থানার ওসি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। তবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাহদীর লাইভেই অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, লাইভে রিকশার পেছনের অংশে কাউকে দেখা যায়নি। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও সাজানো নাটক। 

মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন হবিগঞ্জের সদস্যসচিব। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেওয়া তার একটি ফেসবুক লাইভ ও সংশ্লিষ্ট ভিডিও। ফিনল্যান্ডের ভিসা সেন্টারে এক তরুণীর সঙ্গে যাওয়া এবং দিল্লি বিমানবন্দরে প্রায় ৪০ মিনিট পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ তুলে তিনি ওই লাইভ দেন। মূলত শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে ধমক, বানিয়াচং থানার এক উপ-পরিদর্শককে ‘জ্বালিয়ে দেওয়ার’ দাবি এবং এক পুলিশ সদস্যের উদ্দেশে ‘বুক ছিঁড়ে কলিজা বের করে নেওয়ার’ হুমকির মতো বক্তব্যের কারণে প্রথম আলোচনায় আসেন মাহদী। 

ফিনল্যান্ডের ভিসা সেন্টার সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ইস্যু সেই পুরোনো ভিডিওগুলোকে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে। মাহদী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাওলানা তৈয়ব আলীর ছেলে। একুশ বছরের এই তরুণের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে ২০২৪ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ পতনের আন্দোলনের সময়। সে সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পান। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে তিনি দিনরাত রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ফেসবুকে বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আরও আলোচনায় আসেন।

প্রথম বড় সমালোচনার মুখে পড়েন গত ৯ মে, যখন তারই সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সাকিবের হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় সাকিবকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং ৬ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে মুক্ত হলেও দুই দফা চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এরই মধ্যে গত ১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে আটক করলে মাহদী দলবল নিয়ে থানায় যান এবং পুলিশের কাছে কৈফিয়ত চান। 

শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরদিন বানিয়াচংয়ে ‘নাইন মার্ডার’-এর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি ওসিকে হুমকি দেন এবং নয়নকে ছাড়িয়ে আনেন। নয়নের মুক্তির ব্যাপারে ফেসবুকে কথা বলতে বাধ্য হন খোদ হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ চাপের মুখে মাহদীকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের রাতেই তীব্র আন্দোলনের মুখে বিশেষ আদালত বসিয়ে তাকে মুক্ত করার চেষ্টা হয়। শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব না হলেও পরদিন আদালতে হাজির করে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। 

মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই আবার বিতর্কে জড়ান মাহদী। ইনকিলাব মঞ্চের হাদি হত্যার বিচার দাবিতে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলে আয়োজিত আন্দোলনে গিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বুক ছিঁড়ে কলিজা বের করে নেব। এ বক্তব্য জেলা জুড়ে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি হবিগঞ্জ জেলার সব আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেলে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও বিভিন্ন ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মাহদীর গ্রেপ্তারের দাবি জোরালোভাবে তুলতে থাকেন। 

এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার দিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসে অবস্থান করছেন মাহদী, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই সময় তার সঙ্গে এক তরুণী ছিলেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বুধবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ফ্লাইটে ওঠার আগে দেওয়া ফেসবুক লাইভে মাহদী বলেন, আমি দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বলছি। আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা দেশে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানাব। এখানে আমাকে প্রায় ৪০ মিনিট পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। আমি আমার দেশের দূতাবাসে কথা বলতে চাইলেও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। পরে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে আমাকে দেশে পাঠানো হয়। 

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণীর সঙ্গে থাকা অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তাকে প্রশ্ন করছেন। ওই তরুণী প্রথমে নিজেকে মাহদীর বান্ধবী এবং পরে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এ বিষয়ে মাহদীর পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। মাহদীর এসব কর্মকাণ্ড এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কর্মীসহ বিভিন্ন ঘটনায় ভুক্তভাগীরা তাকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন। শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ঢুকে ওসিকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় মাহদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। সময়মতো আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪