স্টাফ রিপোর্টার: জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ি নিরুৎসাহিত করে দেশে বিদ্যুচ্চালিত (ইভি) গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক-কর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পেট্রোল, ডিজেল ও সিএনজিচালিত গাড়ির ওপর করভার বাড়ানো হবে, আর বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ও এর যন্ত্রাংশে দেওয়া হবে ব্যাপক কর ছাড়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যানবাহন উৎপাদন ও ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে শুল্ক ও কর রেয়াত দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে ইভি ও এর যন্ত্রাংশ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন পর্যায়ে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল আমদানিতে প্রায় সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি পাবে। তুলনামূলক কম সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কর ছাড় থাকবে।
এছাড়া, বিদ্যুচ্চালিত বাস ও ট্রাক উৎপাদন ও আমদানিতে ভ্যাটসহ অধিকাংশ শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইভি নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়করও কমানোর প্রস্তাব এসেছে। যানবাহনের ক্ষমতার ভিত্তিতে এই কর ২৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
বাজেট প্রস্তাবে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির আমদানি পর্যায়ের মোট করভার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে সম্পূর্ণ শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে দেশে ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সহজ হয়।
অন্যদিকে, পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনচালিত গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এসব যানবাহনের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যম আকারের ইঞ্জিনযুক্ত (১২০০–১৬০০ সিসি) গাড়ির করভার বিদ্যমান ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে।
সরকারের মতে, এসব পদক্ষেপ পরিবেশ দূষণ কমিয়ে ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে দেশীয় শিল্প বিকাশে সহায়তা করবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি