| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেতন বন্ধ জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মীদের

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৪, ২০২৬ ইং | ০০:৫২:৩৬:পূর্বাহ্ন  |  ৫১৫ বার পঠিত
বেতন বন্ধ জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মীদের

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। তহবিলের অভাবে সংস্থাটির স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গত দুই মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটির ৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো বেতন পাচ্ছেন না। ফলে চরম অনিশ্চয়তা আর চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, অফিস পরিচালনা ও কর্মীদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে এখানে প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়, যার মধ্যে ১২ লাখ টাকাই যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনে। সরকারি তহবিল থেকে সর্বশেষ গত মার্চ মাসে কর্মীরা তাদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পেয়েছিলেন।

এরপর সংকট তীব্র হলে, আসন্ন ঈদুল আজহার কথা বিবেচনা করে ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল আকবর নিজের ব্যক্তিগত তহবিল (অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পাওয়া পেনশন) থেকে বিনা সুদে এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা ধার দেন। সেই টাকা দিয়ে কর্মীদের এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়া হলেও, মার্চ এবং মে মাসের বেতন এখনো বকেয়া রয়ে গেছে। এমনকি এবার কোনো উৎসব ভাতাও (ঈদ বোনাস) পাননি কর্মীরা।

২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আহত ও শহীদ পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এই ফাউন্ডেশন গঠন করে সরকার। ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা প্রাথমিক অনুদান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা এবং সাধারণ মানুষের অনুদানসহ সর্বমোট ১১৯ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠিত হয়।

প্রথম দফায় এক হাজারের বেশি আহত ও শহীদ পরিবারকে এই তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশেষ করে গুরুতর আহতদের চোখ, হাত-পা এবং স্নায়ুর জটিল অস্ত্রোপচার ও থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার পেছনে একটি বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হয়। কিন্তু এরপর নতুন কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক বড় অনুদান না আসায় চলতি বছরের শুরু থেকেই তহবিলে টান পড়ে। বর্তমানে ফাউন্ডেশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রায় শূন্যের কোঠায়।

ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিক সহায়তার জন্য বারবার সরকারের বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও শহীদ-মাতা সামসি আরা জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এমন কেউ বসে আছেন, যিনি এই ফাউন্ডেশনটিকে ভেঙে দিতে চান। আমরা টাকার জন্য সব জায়গায় গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। সরকারের কোনো আন্তরিকতা দেখছি না। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আমাদের ১৮ মে দেখা করার শিডিউল দিয়েও দেখা করেননি। ১৯ তারিখে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও তিনি বললেন ঈদের পর দেখা করবেন। আমি একজন শহীদ-মাতা হওয়া সত্ত্বেও আমাকে বসিয়ে রেখে উনার দলীয় লোকজনদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।”

পরবর্তীতে তারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের কাছে গেলে তিনি সময় দিলেও জানান যে, তহবিলের বিষয়টি তার এখতিয়ারে নেই। এমনকি সংসদের স্পিকারকে সংসদে এই ফাউন্ডেশনের জন্য বাজেট বরাদ্দের দাবি তুলতে অনুরোধ করা হলেও তিনি তা করেননি বলে জানান সামসি আরা জামান।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফাউন্ডেশনের সিইও কামাল আকবর জানান, তারা বাধ্য হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং সেখান থেকে ইতিবাচক জবাবের অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, “আমরা এক অর্থবছরের বাজেট দিয়ে দুই অর্থবছর চালিয়েছি। এখন নতুন অর্থবছর চলে এলেও আমাদের কোনো বাজেট দেওয়া হচ্ছে না।”

সাধারণ সম্পাদক সামসি আরা জামান মনে করেন, জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশনকে দুর্বল বা বন্ধ করে দেওয়া মানে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকেই আঘাত করা। বেতন না পাওয়ায় এখন অফিসের ভেতরেও অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতা ও রাজনীতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪