স্পোর্টস ডেস্ক: শেষ মুহূর্তের গোলে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল ঘানা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইয়েরেঙ্কির গোলে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
ম্যাচজুড়ে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। শেষ দিকে খেলা হয়ে ওঠে একেবারে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের। ঘানার হয়ে আন্তোয়ান সেমেনিওর দারুণ পাস থেকে ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তে গোলরক্ষক অরলান্ডো মসকেরার মুখোমুখি হয়েও জাল খুঁজে পাননি। যদিও পরে সহকারী রেফারির পতাকা ওঠায় সেটি অফসাইড হিসেবে গণ্য হয়।
পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার ঘানার রক্ষণে ভীতি ছড়ায় পানামা। মুরিয়োর পাস থেকে এডগার বারসেনাসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর রামোসের বাঁ পায়ের কার্লিং শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
ঘানাও একাধিক সুযোগ নষ্ট করে। সেমেনিওর নিচু ক্রস থেকে জর্ডান আয়ুর সামনে ফাঁকা জালে বল পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে স্লাইড করে বিপদমুক্ত করেন রামোস। কর্নার থেকে সেমেনিওর হেডও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
অন্যদিকে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগ পায় পানামা। ঘানার বক্সে তৈরি হওয়া জটলার পর হার্ভের শট গিয়ে পড়ে মার্টিনেজের কাছে। তবে সংকীর্ণ কোণ থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট সাইডনেটে আঘাত করলে হতাশ হতে হয় মধ্য আমেরিকার দলটিকে।
সব নাটকীয়তার অবসান ঘটে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। দ্রুতগতির এক আক্রমণে সেমেনিওর নিখুঁত পাস থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয়সূচক গোল করেন ইয়েরেঙ্কি। তাতেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ঘানা।
বিশ্বকাপের আগে ঘানার শিবিরে ছিল বেশ অস্থিরতা। এপ্রিলে কোচ অটো আদ্দোকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ কার্লোস কুইরোজকে। তার অধীনে দলে জায়গা হয়নি মোহাম্মদ কুদুস ও প্রিন্স ওউসুর মতো পরিচিত কয়েকজন ফুটবলারের।
এ ছাড়া অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার টমাস পার্টির অনুপস্থিতিও ছিল ঘানার জন্য বড় ধাক্কা। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়ের করা ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মামলার প্রেক্ষাপটে কানাডা তার ভিসা আবেদন ও পরবর্তী আপিল প্রত্যাখ্যান করায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে, কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বে অপরাজিত থাকা পানামা ২০১৮ সালের হতাশাজনক বিশ্বকাপের পর এবার আরও শক্তিশালী দল হিসেবেই মাঠে নেমেছিল। তবে শেষ মুহূর্তের এক গোলে পরাজয় দিয়েই তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হলো।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি