মাগুরা প্রতিনিধি: গঙ্গাদেবীর পূজা ও গঙ্গাস্নান উপলক্ষে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের চুকিনগর গঙ্গাঘাটে বুধবার দিনব্যাপী ধর্মীয় উৎসব ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে হাজারো পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী অংশ নেন।
বুধবার ভোর থেকেই ভক্তরা পুণ্য লাভের আশায় বেলপাতা, ফুল, ধান, দূর্বাসহ বিভিন্ন উপকরণ নদীতে অর্পণ করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গঙ্গাস্নান করেন। দিনভর চলে পূজা, মানসিক পূরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা দশমী তিথিতে বটগাছতলায় গঙ্গাদেবীর পূজা এবং বারাঙ্গা খাল ও ফটকি নদীর সঙ্গমস্থলে গঙ্গাস্নানের আয়োজন করা হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অনেক মানুষ এ আয়োজনে অংশ নেন এবং এটিকে সম্প্রীতি ও মিলনমেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেন।
উপজেলার সিংড়া গ্রামের বাসিন্দা গোবিন্দ বিশ্বাস জানান, তিনি প্রতিবছরই গঙ্গাস্নানে অংশ নিতে আসেন। তার ভাষ্য, বিশ্বশান্তি, কল্যাণ এবং পাপ থেকে মুক্তির আশায় ভক্তরা এখানে গঙ্গাস্নান করে থাকেন। একই সঙ্গে মানত ও প্রার্থনার মাধ্যমে অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন কামনা করেন।
চুকিনগর গঙ্গাঘাট মন্দির কমিটির সভাপতি পরিমল মণ্ডল বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে এই গঙ্গাস্নান ও পূজা উৎসব। প্রতি বছরই এখানে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে এবং এ উপলক্ষে গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়।
গঙ্গাস্নানকে কেন্দ্র করে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে জমজমাট মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা কয়েক দিন আগেই তাদের পণ্যসামগ্রী নিয়ে মেলায় অবস্থান নেন। মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, খেলনা, হাতি-ঘোড়ার প্রতিকৃতি, কৃষি ও গৃহস্থালি সরঞ্জামসহ নানা ধরনের পণ্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে।
এছাড়া মেলায় নাগরদোলা, শিশুদের খেলনা, বাঁশি এবং বিভিন্ন বিনোদন সামগ্রী ঘিরে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত ছিল পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি