আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার কাটিয়া লা মার এলাকায় ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি।
ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি বলে ধারণা করা হচ্ছে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের কাটিয়া লা মার এলাকাকে। সেখানে অনেক বাসিন্দা রাত কাটিয়েছেন রাস্তায় অথবা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে। তারা বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
ধসে পড়া একটি ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ৪৯ বছর বয়সী লারি রোহাস বলেন, সেখানে তার পরিবারের সদস্যরা আটকা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কিছুই নেই, এমনকি ভেতরে যাওয়ার শক্তি বা সাহসও নেই।
১২ তলা একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা এক মেয়ের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ভেতরে মানুষ জীবিত আছে, কিন্তু তাদের উদ্ধারে কেউ আসছে না!’
৫৪ বছর বয়সী ওদালিস এসকালোনা রাজধানী কারাকাসে ভূমিকম্পের ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা করে বলেন, ‘সিঁড়ি ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, পুরো দেয়ালে ফাটল ধরে। ছাদ থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিচে পড়তে থাকে।’
কারাকাসের উঁচু পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা ৬৯ বছর বয়সী কারমেন গুয়েদেস জানান, ভূমিকম্প শুরু হলে তার ঘরের জানালাগুলো প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে থাকে।
তিনি বলেন, ‘আমি, আমার শয্যাশায়ী বোন এবং এক প্রতিবেশী একসঙ্গে গা ঘেঁষে বসেছিলাম। আমরা বের হতেও পারিনি।’
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং ৯৭১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। একই সঙ্গে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা অন্তত ১১ হাজারে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান আগের ঘোষিত ৩২ জন নিহত ও ৭০০ জন আহতের সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
গতকালের ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প দুটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব