| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মা ও ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায়

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৭, ২০২৬ ইং | ০০:১১:৩৫:পূর্বাহ্ন  |  ৮৮৬ বার পঠিত
মা ও ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায়

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন সন্দেহভাজন হামলাকারী অন্তর মজুমদার। পাঁচ প্রাণহানির এই নৃশংস ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌর শহরের একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে—সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) এবং শিফা আক্তারকে (৯) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে রায়পুর শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে একই ভবনের সাবেক ভাড়াটিয়া অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে। তিনি কয়েক মাস আগে ওই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন এবং ফল বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সাত বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহিনুর বেগমের স্বামী কামালের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে এক ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ছেলে সিফাত বর্তমানে গভীর শোক ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন।

সিফাত জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। সকাল ৯টার দিকে মায়ের সঙ্গে তার শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা হয়। মা জানতে চেয়েছিলেন তিনি নাশতা করেছেন কি না। কিছু সময় পর বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের খবর পান তিনি।

তিনি বলেন, মায়ের সঙ্গে সেটাই ছিল শেষ কথা। পরে বাড়ি এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো পূর্ব বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

শুক্রবার দুপুরে নিহত চারজন এবং গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তরের মরদেহ নিতে তার কোনো স্বজন বা পরিচিত ব্যক্তি আসেননি। তার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের স্বজনরা কুমিল্লা থেকে এসে মরদেহ গ্রহণ করেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় রায়পুর শহরের ধানহাটা এলাকায় তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে মরদেহগুলো কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দ্বিতীয় জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি ও সিফাতের কর্মস্থলের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে যে দৃশ্য তিনি দেখেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি বলেন, সিফাত অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ভদ্র ছেলে। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে চেষ্টা করছিল সে। একদিনে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে সে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অরূপ পাল জানান, ময়নাতদন্তে নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে সিফাত বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪