জলের শব্দ
স্যাটেলাইটগুলো
পৃথিবীর ঘুমন্ত কপালের উপর দিয়ে নিঃশব্দে চলে যায়।
নিচে শহর
গ্রাম
কাচের দেয়ালে আটকে আছে হাজারো সূর্যাস্ত।
এখানে কেউ আকাশ দেখে না,
সবাই আবহাওয়ার খবর দেখে।
একটি নীল নোটিফিকেশন
দিনের মধ্যে ঢুকে পড়ে ঋণপত্রের মতো;
রাতে সার্ভার-রুমের আলো জ্বলে-নেভে,
মানুষ ঘুমায়, জেগে থাকে সংঘাত।
পুরনো নদীগুলো মানচিত্র থেকে মুছে যায়,
তবু বৃষ্টির রাতে
রাস্তার নীচে শোনা যায় সেই জলের শব্দ,
যার মূর্ছনায় ইতিহাস হেসে ওঠে।
২.আমার দাদার মুখ
আমার দাদার মুখ
একটি বিবর্ণ ছবিতে আটকে আছে,
কিন্তু অ্যালগরিদম জানে না
তার শেষ দীর্ঘশ্বাসের রঙ।
কোনো এক অদৃশ্য সংরক্ষণাগারে
জমা হচ্ছে আমাদের হাঁটা,
আমাদের ভয়, আমাদের অন্যমনস্কতা।
আমরা হাঁটতে হাঁটতে পিছিয়ে যাচ্ছি।
৩ একদিন আমি দেখলাম
একদিন আমি দেখলাম
স্ক্রিনের কালো আয়নায় আমার মুখের পেছনে
আরও কয়েকটি মুখ দাঁড়িয়ে আছে।
তারা এখনো জন্মায়নি,
তারা আমার সন্তানের সন্তান নয়,
আমার ভবিষ্যৎও নয়—
তারা সেইসব মানুষ,
যাদের জন্য আমরা আজ
পৃথিবীটাকে অসমাপ্ত রেখে যাচ্ছি।
৪.বাইরে বাতাস
একটি শুকনো পাতা সেন্সরের সামনে এসে
কিছুক্ষণের জন্য পুরো ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে দেয়।
সেই মুহূর্তে মনে হয়, সমস্ত প্রযুক্তির ভেতরে
এখনও একটি বন রয়ে গেছে।
সমস্ত গতির ভেতরে৷ স্থির একটি হ্রদ।
সমস্ত পর্দার আড়ালে একটি অন্ধকার গর্ভ।
আর আমরা, নিজেদের ভবিষ্যৎ
আপলোড করতে করতে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছি
সেই নামহীন কেন্দ্রের দিকে,
যেখানে প্রতিটি পাসওয়ার্ডে শেষ পর্যন্ত খুলে যায়
একটি মাত্র দরজা।