স্পোর্টস ডেস্ক: ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপ আয়োজনে স্বাগতিক দেশের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দলের সঙ্গে অত্যন্ত অন্যায্য আচরণ করেছে এবং এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আর যেন না ঘটে, সে জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর সংবাদ সম্মেলনে ঘালেনোই বলেন, মি. ইনফান্তিনো আমাদের সমস্যাগুলো কমিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, তবে স্বাগতিক দেশ আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। ভবিষ্যতে কোনো আয়োজক দেশ যেন কোনো দল বা খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ফিফাকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরান এখনও শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার অন্য ম্যাচগুলোর ফল নিজেদের পক্ষে এলে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে পারে দলটি।
মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচে যোগ করা সময়ে শোজা খলিলজাদের জয়সূচক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এছাড়া সাঈদ এজাতোল্লাহর একটি হেডবারও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, যা ইরানের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমিও ফিফার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই এটি আমাদের জন্য একটি দুর্যোগপূর্ণ বিশ্বকাপ। ফিফার দায়িত্ব ছিল সমস্যাগুলোর সমাধান করা, কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। আমাদের ১১ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। এটা কীভাবে সম্ভব?
তারেমি আরও অভিযোগ করেন, অনেকেরই ইরানকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় দেখতে চাওয়ার মনোভাব রয়েছে। তিনি বলেন, এখানে আমাদের সব কিছুর বিপক্ষে লড়াই করতে হচ্ছে। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয়, অনেকেই হয়তো চায় আমরা বাদ পড়ে যাই।
ঘালেনোই জানান, ভিসা জটিলতার কারণে বিশ্বকাপ শুরুর আগে নির্ধারিত সময়ের দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেনি ইরান। ফলে দলটি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এমনকি ম্যাচের আগে নির্ধারিত সময়ের আগেও তারা ভেন্যুতে যেতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অবস্থান করছে ইরান দল। সিয়াটলে ম্যাচ শেষে তাদের রাতেই সেখানে ফিরে যেতে হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ দলটিকে সিয়াটলে অবস্থানের অনুমতি দেয়নি। ঘালেনোইর ভাষায়, ম্যাচের পর দীর্ঘ বিমানযাত্রা খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। এটি আমাদের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো ঘটল।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ওপর যুদ্ধের প্রভাবও ছিল। এত বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা ভালো খেলেছি। ইরানি জনগণ ও দলকে নিয়ে বিশ্ব গর্বিত হতে পারে।
অন্যদিকে, মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কা কমিয়ে দেখিয়েছেন দলের কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পর সালাহ নিজেই পরিবর্তনের অনুরোধ করেন।
হোসাম হাসান বলেন, কোনো খেলোয়াড় বদলির অনুরোধ করলে বোঝা যায় সে কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করেছে। তবে সালাহ আমাকে জানিয়েছে, এটি গুরুতর কিছু নয় এবং সে ঠিক হয়ে যাবে। মেডিকেল দলের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা আরও নিশ্চিত হতে পারব।
আগামী শুক্রবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে মিশর। ওই ম্যাচে সালাহকে পাওয়া যাবে বলেই আশাবাদী মিশরীয় কোচ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি