চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার হাবিব লেনের শেষ প্রান্তে ক্যাপ্টেন এ বি এম দেলোয়ার হোসাইনের মালিকানাধীন ভবনটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং নকশা অনুযায়ী ভবিষ্যতে কাজ পরিচালনার অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
সিডিএ জানায়, বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও নির্মাণ বিধি অমান্য করায় ভবনটির সামনে অংশে থাকা নকশাবহির্ভূত স্থাপনা ভেঙে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে নকশা বহির্ভূত অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণ না করা পর্যন্ত ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল।
গত ১১ জুন পরিচালিত অভিযানে সিডিএ’র স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন এবং অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ টিপুর নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এর আগে গত বছরের ২৬ আগস্ট একই ভবনে অভিযান চালিয়ে নিচতলা থেকে সাততলা পর্যন্ত অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয় এবং নির্মাণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভবন নির্মাণে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) মানা হয়নি। প্লটের চারপাশে খালি জায়গা না রেখে পুরো জমি জুড়েই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, ফলে অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এই বিষয়ে পাশের প্লটের বাসিন্দা শামিম আরা নওশাদ সিডিএতে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ টিপু ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। তখন ভবনের নিচতলা থেকে সাততলা পর্যন্ত অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয় এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
পরবর্তীতে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় পরিদর্শন শেষে গত ২৫ মে ক্যাপ্টেন দেলোয়ার হোসাইনের ভবন মালিককে নোটিশ দেয় সিডিএ। নোটিশে ১০ জুনের মধ্যে নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পুনরায় অভিযান চালানো হয়।
সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ টিপু জানান, ১১ জুন দুপুরে খুলশীর হাবিব লেনের ওই ভবনসহ আরও দুটি ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণ করে ভবনটি সিলগালা করা হয়।
পরবর্তীতে ভবন মালিক স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আত্মসমর্পণ করে নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণের অঙ্গীকারনামা জমা দেন এবং ধার্যকৃত ১০ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিধি অনুযায়ী ভবনটির সিলগালা খুলে দেওয়া হয়।
সিডিএ জানায়, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অবৈধ বা নকশাবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম