চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম কার্যালয়। পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির কারণে ৫ জুনের পরিবর্তে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবসটি উদযাপন করা হয়।
বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (UNEP)। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংস্থাটির উদ্যোগে প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে।
এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা”। দিবসটি উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম কার্যালয় মাসব্যাপী নানা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।
এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা এবং আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় সরকার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন।
এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা তীব্র দাবদাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া, গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া এবং চলমান জলবায়ু সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর, সমন্বিত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পাহাড় কাটা ও জলাশয় ভরাট বন্ধ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, আজকের ছোট ছোট সচেতন উদ্যোগই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র সব পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে সনদপত্র ও বই তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত অতিথিদের মাঝে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ বিতরণ করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম